কাগজপত্র নিয়ে ১২ দিন ধরে উধাও মাদরাসা সুপার
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০২:২৬ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০২:৩০
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল দক্ষিণ পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করছে ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হলে তিনি কোন জবাব না দিয়ে উল্টো প্রতিষ্ঠানের গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে ১২দিন যাবৎ উধাও হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি থানায় জিডি করেছেন।
উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মিত মাদরাসায় না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেন স্থানীয় অভিভাবক। তার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট। এরপর থেকে ১২ দিন ধরে বিনানুমতিতে মোস্তাফিজুর রহমান মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছে। এ বিষয়ে সুপারের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানার একটি জিডি করা হয়েছে (যার নং ৪৯৬, তাং ১৩/১০/১৯ইং)। ১৯ অক্টোবর মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্র, নগদ অর্থ নিয়ে পলাতক থাকাসহ, বিভিন্ন অনিয়ম ও অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। সভায় মাদরাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক অপসারণ, সহ-সুপার আবদুল হাফিজকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি বিভিন্ন দফতরে চষে বেড়ালেও দীর্ঘ ১২দিন যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় অভিভাবক মহল ও স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীয়াবাদ গ্রামের মৃত রউফ মিয়ার ছেলে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদরাসায় পড়াকালীন অবস্থায় সে ছাত্র শিবির করতেন। চাকরিতে প্রবেশের পর তিনি ওই ইউনিয়নের জামায়াত নেতা হিসেবে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত শরিফুল ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
মাদরাসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, সুপারের নানান অনিয়ম ও অসদাচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ দেই। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখান। যার ফলে আমরা নিরুপায় হয়ে পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করি।
মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সে দীর্ঘদিন যাবৎ উন্নয়ন তহবিলের সঠিক হিসাব দিতে পারেনি। তাছাড়া তিনি সপ্তাহে দুইদিন মাদরাসায় এসে বাকী চার দিনের স্বাক্ষর করতেন। শুধু তাই নয়, তার অধিনস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। যা একজন শিক্ষকের নৈতিক আদর্শের পরিপন্থি। ব্যবস্থাপনা কমিটি একাধিক সভায় তাকে মৌখিকভাবে নিজেকে শোধরানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। দিন দিন অনিয়মের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে তাকে একাধিকবার শোকজ করা হয়। শোকজের জবাব না দিয়ে উল্টো মাদরাসার গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে ১২ দিন যাবৎ উধাও তিনি। তার ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নিরুপায় হয়ে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি এবং মাদরাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সহ-সুপার আবদুল হাফিজকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেই।’
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দায়িত্ব দিয়েছি।’
মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
