ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পূজার নাড়ু তৈরিতেও বেড়েছে খরচ

পূজার নাড়ু তৈরিতেও বেড়েছে খরচ
×
×

ছবি-সংগৃহীত

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৩ | ০৯:৫৪ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৩ | ০৯:৫৪

শারদীয়া দুর্গাপূজাসহ আরও অনেক পূজা-পার্বণে রসনা বিলাসে শত বছর ধরেই নাড়ু যেন প্রধান অনুসঙ্গ। আর দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কালি পূজা আসলেই গ্রাম অঞ্চলে বিশেষ করে হিন্দু পরিবার গুলোতে কয়েক দফায় বিভিন্ন পদের নাড়ু, মুড়ি, মোয়া, খই তৈরির ধুম পড়ে যায়। প্রাচীনকাল থেকে উপাদেয় খাদ্য নাড়ুর প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা অনেকেরই কাজ করে। এ কারণে একুশ শতকেও চলনবিল এলাকার গৃহস্থ পরিবারে নাড়ুর চাহিদা মোটেও কমেনি। 

কিন্তু গত পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে নাড়ু, মুড়ি, মোয়া, খই তৈরির সব উপকরণের দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে। ফলে নাড়ু তৈরিতেও নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে ছন্দ পতন ঘটেছে বলে জানান  তাড়াশের বিনোদপুর গ্রামের গৃহিনী চন্দনা রানী দাস।

চলনবিলের বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি জোড়া নারকেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, চিনি ১৩৫ টাকা কেজি, তিল ১২০ টাকা কেজি, চিড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি, মুড়ি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি, ধানের খই প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, ঢ্যাপের খই ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দুধ ৮০ টাকা লিটার এবং নাড়ু তৈরির সব মসলার দামও বেড়েছে। 

তাড়াশের চৌবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশ্বিনী কুমার সরকার জানান, পূজার সময় শুধু নাড়ু তৈরিতেই নয় শারদীয়া দুর্গা পূজার কাজেও নারকেল প্রয়োজন হয়। অথচ এখন নারকেলে হাত দিতেও ভয় হয়। কেননা প্রতি জোড়া নারকেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ডাব ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু ধানের দাম বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। মানে ৫ জোড়া নারকেল কিনতেই এক মণ ধানের দামের সমান খরচ হয়। যা একটি কৃষক পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক। 

এ দিকে চাঁচকৈড় বাজারের নারকেল, তিল, গুড়সহ নিত্যপণ্য বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, আমরা রাজশাহী, নাটোর, পাবনা এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাইকারি দরে নারকেল কিনে চলনবিল এলাকার হাট-বাজারে খুচরা বিক্রি করি। আমরা যেখান থেকে পাইকারি নারকেল কিনি সেখানেও দাম চড়া। তাই বেশি দামে কিনলে বেশি দামেই খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমাদেরই বা কি করার আছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ হাসান বলেন, চলনবিল একটি বড় এলাকা। তবে আমরা তাড়াশের হাট-বাজারে সব সময় বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে জিনিস পত্রের দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন

×