ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

২৪টি ওয়ার্ডে হচ্ছে কেসিসির নতুন ভবন

২৪টি ওয়ার্ডে হচ্ছে কেসিসির নতুন ভবন
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:১০

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৯টি ওয়ার্ডে তিন তলা, দুটি ওয়ার্ডে ১০তলা ভবন নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় ২৪টি ওয়ার্ডে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টারও থাকবে। 

এ জন্য ১৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কেসিসি। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে ওয়ার্ড কার্যালয় ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রথম প্রকল্প পাঠিয়েছিল কেসিসি। ওই প্রকল্পের নানা বিষয়ে মন্ত্রণালয় আপত্তি দেওয়ায় নতুন করে এই প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে কেসিসির বাসিন্দাদের নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ কায়েম সার্টিফিকেট, জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, বিধবা ও অবিবাহিত সনদ, কুকুর কামড়ের টিকার প্রত্যায়নপত্রসহ ১৭ ধরনের সনদ ইস্যু করা হয়। এসব সেবা নিতেই প্রতিদিন ওই ওয়ার্ডের মানুষকে যেতে হয় ওয়ার্ড বা কাউন্সিলরের কার্যালয়ে। তবে দেড় যুগেরও বেশি সময় আগে নির্মাণ করা অধিকাংশ ওয়ার্ড কার্যালয়ের অবস্থা এখন জরাজীর্ণ। এ ছাড়া ২, ৩, ১৩, ১৫, ১৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে কেসিসির নিজস্ব কার্যালয় নেই। কেসিসির পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জানা গেছে, এ অবস্থায় ২৪টি ওয়ার্ডে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা ভবন নির্মাণ করা হবে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২০, ২১ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ওপর তিনতলা ভবন হবে ১৩, ১৯ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে। নগরীর ১৬, ২৩ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে হবে চারতলা ভবন। এ ছাড়া উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে ৮, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়।

কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল জব্বার জানান, 'খুলনা সিটি করপোরেশনের উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ওয়ার্ড কার্যালয় কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ' নামের প্রকল্পটি গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২৪টি ওয়ার্ডে নতুন ভবন, সাতটি ওয়ার্ডে পুরোনো ভবন সম্প্রসারণ ও নগর ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা নির্মাণ করা হবে। তিনি জানান, ১, ৩, ৭, ১৫, ১৭, ১৮, ২০, ২১, ২৬, ২৭ এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় নির্মাণ করতে ১ দশমিক ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি ভবনে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিজস্ব কার্যালয় থাকবে। এ ছাড়া ৩, ৪, ৯,১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২, ২৩, ২৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় ভবনের সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত কমিউনিটি সেন্টার থাকবে।

কেসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কেসিসির প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না জানান, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দোকান ভাড়া করে ওয়ার্ড কার্যালয় চালিয়েছি। এতে নগরবাসীসহ ওয়ার্ড স্টাফদেরও কষ্ট হয়েছে। নিজস্ব ভবন ও কমিউনিটি সেন্টার হলে এই কষ্ট কমবে।

কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, অধিকাংশ নাগরিক সেবা ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়। তবে ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো রয়েছে ভঙ্গুর অবস্থায়। অনেক ওয়ার্ডে কার্যালয় নেই। এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডেই নতুন ভবন করা হবে। এতে নাগরিক সেবা সহজ হবে।

আরও পড়ুন

×