নুসরাতের তেজোদীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে অমরত্ব দিয়েছে: আদালত
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৪৩ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৫১
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় নুসরাত জাহান রাফির তেজদীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতিমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ আত্মত্যাগ চিরকালের অনুপ্রেরণা।
বৃহস্পতিবার সকালে এ মামলার রায়ে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নুসরাত মারা যাওয়ার ৬ মাস ১৩ তিন পর এ রায় দেওয়া হল।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক রায়ের চুম্বক অংশ পড়ে শুনিয়ে ১৬ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক বলেন, সোনাগাজী ফাজিল ইসলামী ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকোজ্জল ভূমিকায় কালিমা লিপ্তকারী এ ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। নারীত্বের মর্যদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফি তেজদীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতিমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে।
বিচারক আরও বলেন, আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায় দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেন বিচারক।
আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত এ দিনে সকালেই আসামিদের আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। রায় শোনার পর আসামিরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন এবং কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন নুসরাত। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন নুসরাত।
এর জেরে ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করে নুসরাতের পরিবার।