ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

করোনার থাবা: উৎপাদন ব্যাহত হতে চলেছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে

করোনার থাবা: উৎপাদন ব্যাহত হতে চলেছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে
×

ফাইল ছবি

হাসনাইন ইমতিয়াজ

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ০৫:০১ | আপডেট: ০৩ মে ২০২০ | ০৫:৩৮

করোনার প্রভাবে ক্ষতি হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় প্রকল্প পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এ প্রকল্পটি পুরোপুরি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও করোনার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় পর্যাপ্ত বিদেশি প্রকৌশলী বা দক্ষ লোকবলের অভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে।

পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির অধীনে যৌথ মালিকানায় নির্মিত। অর্থাৎ প্রকল্পটির মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ এবং চীনের একটি কোম্পানির।

প্রকল্পটির জ্বালানির জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে জাহাজে করে কয়লা আমদানি চলছে। ইতোমধ্যে কয়লার পাহাড় জমে গেছে কোম্পানির নির্মিতব্য কোল ইয়ার্ডে। গতকাল মঙ্গলবার ২২ হাজার ২২০ টনের আরেকটি জাহাজ এসে ভিড়েছে পায়রা বন্দরে। কয়লা খালাস করে জাহাজটি বুধবার বন্দর ছেড়ে যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি ভেড়ানোর আগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধসহ সব ধরনের মেডিকেল প্রস্তুতি নিয়ে জাহাজ থেকে মাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজের ক্রুদের শরীরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হরেও তাদের জেটিতে নামতে দেওয়া হয়নি। জাহাজের ক্রুরা করোনাভাইরাসমুক্ত শিপিং এজেন্ট সম্পর্কিত সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন।

করোনার প্রভাব যত বাড়ছে, সরকারের বিদেশনির্ভর প্রকল্পগুলোর অনিশ্চয়তা তত বাড়ছে। বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে।সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটিতে চীনের তিন হাজারের মতো শ্রমিক-প্রকৌশলী ও অপারেটর কাজ করেন। ছুটিতে দেশে গিয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তাদের অনেকেই আটকা পড়েছেন। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পিছিয়ে পড়ছে বাণিজ্যিক উৎপাদনের কার্যক্রম।

২০১৬ সালে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। পরে চলতি মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফুল লোডে পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটি চালানো হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানা ও পরিচালনায় রয়েছে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করছেন, যাদের প্রায় তিন হাজার জনই চীনের নাগরিক। তাদের মধ্যে অপারেটরের সংখ্যাই তিন শতাধিক, যাদের অনেকে ছুটিতে দেশে গিয়ে আর ফিরতে পারেননি।

বিপিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল সমকালকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কিছুটা সংকটে পড়েছে। পুরোপুরি উৎপাদনে না আসতে পারলেও জাহাজে করে কয়লা আসছে।

পুরোপুরি উৎপাদনে আসতে না পারলে কয়লা এনে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক মাস আগে ইন্দোনেশিয়া সংশ্নিষ্টদের নোটিশ করলে কয়লা আমদানি বন্ধ রাখা যাবে।

আরও পড়ুন

×