ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

নমুনা সংগ্রহের ৮ দিন পর অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ও গার্মেন্টকর্মীর করোনা শনাক্ত

নমুনা সংগ্রহের ৮ দিন পর অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ও গার্মেন্টকর্মীর করোনা শনাক্ত
×

প্রতীকী ছবি

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ১১:০৩

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ও এক গার্মেন্টকর্মীর শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। গত ৮ দিন পূর্বে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল রোববার সন্ধ্যায় পাওয়া যায়। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।

নতুন শনাক্ত দু’জনেরই বাড়ি উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নে দত্তগ্রামে।

জানা গেছে, গাজীপুরের একটি এলাকায় থেকে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। করোনা ইস্যুতে পোশাক কারখানা ছুটি হয়ে যাওয়ায় বাড়ি চলে আসেন তিনি। বাড়িতে আসার পর গত ২৫ এপ্রিল ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা ইউনিট ওই ব্যক্তি, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ির নমুনা সংগ্রহ করে। একই দিন নমুনা সংগ্রহ করা হয় রিকশা চালকের ২৫ বছর বয়সী ৬ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীর। গাজীপুর ফেরত ওই নারীর শুকনো কাশি থাকায় তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা ইউনিট। ওই দিন মাইজবাগ থেকে ৬ জন ও বড়হিত থেকে ৩ জনসহ মোট ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয়।

২৫ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করা হলেও ৮ দিনের মাথায় রোববার ফলাফলে ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ফলাফল পেতে বিলম্ব হওয়ায় গ্রামের মানুষ ধারণা করে নেয় যে তাদের (অন্তঃস্বত্ত্বা নারী ও পোশাক শ্রমিক) শরীরে করোনা নেই। তাই হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে পরিবারগুলো অবাধে বসবাস শুরু করে। এতে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে, রোববার রাতে জানার পর এলাকায় আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, নমুনা পাঠানোর ৮ দিনের মাথায় রিপোর্ট পেয়েছেন তারা। এতে দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ওই অবস্থায় আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ল্যাবের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি নমুনা বেশি জমা পড়ায় পরীক্ষা বিলম্বিত হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, নমুনা নেওয়ার বেশ কিছুদিন পার হয়ে যাওয়ায় হয়তো সঠিকভাবে পরিবার গুলো কোয়ারেন্টাইন পালন নাও করে থাকতে পারে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নমুনা গুলোর ফলাফল পাওয়া গেলে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন

×