ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের ২ উপজেলায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে: স্বাস্থ্যবিভাগ

চাঁদপুরের ২ উপজেলায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে: স্বাস্থ্যবিভাগ
×

হাজীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত যুবকের বাড়ি বুধবার লকডাউন করা হয়। ছবি: সমকাল

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০৫:১৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

চাঁদপুর সদর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগ। সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ফলে চলতি সপ্তাহে বেড়ে গেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। প্রথম দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা কয়েকজনের করোনা সনাক্ত হলেও এখন স্থানীয় লোকজনই আক্রান্ত হচ্ছে। নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, তারা কোথায় ও কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত ২৮ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ওই দুই উপজেলায়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় শনাক্ত হয়েছেন ১৩ জন এবং ফরিদগঞ্জে ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় মারা গেছেন ২ জন এবং ফরিদগঞ্জের ২ জন।

প্রথম দিকে মতলব উত্তর উপজেলায় ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও সেখানে সোমবার পর্যন্ত নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে কয়েকদিন ধরে বাড়ছে সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজেদা পলিন বলেন, 'সদর উপজেলায় ১২ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ৫ মে পর্যন্ত সনাক্ত হয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৫ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন।'

তিনি আরও বলেন, 'চাঁদপুরের কিছু কিছু জায়গায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে- তা এখন প্রমাণিত। যেহেতু অনেকগুলো কেস পাওয়া যাচ্ছে, তাই আমরা বলবো, অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।'

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, উপসর্গ থাকায় ১১ এপ্রিল প্রথমে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলোজিস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলায় ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দু'জন মারা গেছেন। আর দু'জন চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যাদের এলাকার বাইরে যাওয়ার রেকর্ড নেই। এটা থেকে বলা যায়, ফরিদগঞ্জে কিছুটা হলেও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ বলে, 'সদর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জে এখন সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। ফলে একজন থেকে আরেকজন সংক্রমিত হচ্ছে। আক্রান্ত রোগী আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলায়ও কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পথে।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন ঘরে থাকতে হবে। এর বিকল্প নেই। এছাড়া অতি প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।'

সিভিল সার্জন জানান, প্রথম মতলব উত্তরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তির করোনা পজেটিভ আসার পর সেখানে ৩ জন করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। লকডাউন করার পর সেখানে এখন নতুন করে কেউ আক্রান্ত হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×