ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় শিকলে বাঁধা এক শিশুর জীবন

বগুড়ায় শিকলে বাঁধা এক শিশুর জীবন
×

শিকলে বাঁধা শিশুটি- সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০৬:৩০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পল্লীতে শিকলে বাঁধা অবস্থায় বেড়ে উঠছে এক শিশুর জীবন। পারভেজ আলম (১২) নামের এই শিশু টাইফয়েটে আক্রান্ত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এরপর সে মাঝে মধ্যে হারিয়ে যায় ও সমবয়সী শিশুদের মারধর করে।

এসব কারণেই তাকে গত দুই বছর যাবত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হচ্ছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়। আর্থিক সংকটের কারণে তার চিকিৎসা হচ্ছেনা।

সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের গোসাইবাড়ী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলামের ছেলে পারভেজ আলম। জন্মের পর শিশুটি অন্য শিশুদের মতো ভাবে বেড়ে উঠলেও দুই বছর আগে অথ্যাৎ দশ বছর বয়সে শিশুটি হঠাৎ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তারপর থেকে শিশুটি মানসিক রোগীতে পরিণত হয়।

ওই গ্রামের শাহাদত হোসেন মাষ্টার জানান, মানসিক ভারসাম্য হারানো ওই শিশুটি বাড়িতে খেলাধুলার এক পর্যায়ে আশপাশের বাড়ির শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের গলা চেপে হত্যার চেষ্টা চালায়। এমনকি আশপাশে বাড়ির লোকজনের মূল্যবান জিনিসপত্র ক্ষতিসাধন করার মত একাধিক অভিযোগ থাকায় ওই শিশুটিকে শিকলে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তার বাবা-মা।

 এ বিষয়ে ওই শিশুর মা পারভীন বেগম জানান,পারভেজ আলম অন্য শিশুদের মতো চলাফেরা করতো।  ২ বছর আগে হঠাৎ টাইফয়েট জ্বর হলে এরপর থেকে সে পাগলের মতো আচরণ করতে থাকে ও মাঝে মধ্যে হারিয়ে যায়। ফকির কবিরাজ এবং পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে কিন্তু ভালো হচ্ছেনা।

তিনি আরও বলেন, পারভেজকে প্রতিবেশিদের পরামর্শে দিনের বেলায় গাছের সঙ্গে ও রাতে ঘরের ভিতর চোকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে পারভেজের উন্নত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা।

জেলার অন্যতম মানসিক চিকিৎসক ডা. মানস কুমার দে জানান, শিকলে বাঁধা শিশুর শারীরিক পরিবর্তন হওয়া সম্ভব। কিন্তু মানবিক পরিবর্তনে বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যেক শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর তার পিতামাতা ও আশ পাশের সকল পরিবেশ থেকে তার মানসিক পরিবর্তন হয়। একজন শিকলে বাঁধা শিশুর জীবনে মানসিক বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে না।

স্থানীয় জোড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মন্ডল বলেন, শিকলে বেঁধে রাখা পারভেজের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেব।

সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি। তার বাবা-মা চাইলে শিশুটি প্রতিবন্ধীর তালিকায় এনে ভাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। 

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলমের সঙ্গে শিশু পারভেজ আলমের বিষয়ে কথা বললে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। খোঁজ নিয়ে ওই শিশুর শিকলমুক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×