ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনাযোদ্ধা

মনোবলই তাদের শক্তি

মনোবলই তাদের শক্তি
×

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৭ মে ২০২০ | ১৪:৩১

হঠাৎ করেই গত ১৭ এপ্রিল কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে পড়েন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সুদর্শন, সুদেহী ও জনপ্রিয় ডাক্তার বদরুল হাসান রনি। এ খবর উদ্বিগ্ন করে তোলে তাড়াইলের সর্বস্তরের মানুষকে। এরপর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। গত ৪ মে রাতে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসে, বর্তমানে করোনামুক্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বদরুল হাসান রনি। তাড়াইলে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যবান্ধব কাজের মধ্যে দিয়ে মানুষের হৃদয়কে জয় করেন ডা. রনি। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করার গল্প বলতে গিয়ে ডা. রনি জানান, কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েও তিনি কখনও মনোবল হারাননি। যাবতীয় সব নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলেছেন।

ডা. রনি বলেন, যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা মনোবল হারাবেন না। গরম পানিতে গোসল, ভাপ এবং অন্যান্য কুসুম গরম পানি পান করুন। পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রয়োজনে শরীর ঠিক রাখার জন্য সামান্য ব্যায়াম করুন। নিশ্চয়ই করোনা পরাজিত হবে।

কিশোরগঞ্জে করোনা আক্রান্ত অন্য সরকারি কর্মকর্তা ভৈরবের সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) হিমাদ্রী খীসা। একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করেন। ১৮ এপ্রিল রাতে তিনি জানতে পারেন, তার করোনা 'পজিটিভ'। আবার ৪ মে রাতে সুসংবাদ পান, তিনি করোনা 'নেগেটিভ'। এভাবে 'পজিটিভ' ও 'নেগেটিভ' শব্দ দুটি তার হৃদয়ে গেঁথে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৭ দিনের ব্যবধানে 'পজিটিভ' ও 'নেগেটিভ' শব্দ দুটি শোনার অনুভূতির ব্যবধানটা বড় বেশি বিশাল। শব্দ দুটি মনে গেঁথে আছে, তা তিনি কখনও ভুলবেন না। আক্রান্ত হওয়ার পর হিমাদ্রী খীসা উপজেলা কমপ্লেক্সের বাসায়ই চিকিৎসাসেবা নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি তার স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, আক্রান্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি। খবরটি জানার পর রাতেই চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং ওষুধ সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় দিনটি তার জন্য দুঃখজনক ছিল। কারণ সেদিন তার গ্রামের বাড়িতে (রাঙামাটি) খবর রটে, করোনায় তিনি মারা গেছেন।

আরও পড়ুন

×