ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় ‘নিউ মার্কেট’ বন্ধ করে দিল প্রশাসন

বগুড়ায় ‘নিউ মার্কেট’ বন্ধ করে দিল প্রশাসন
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২০ | ০১:৫২ | আপডেট: ১৩ মে ২০২০ | ০২:০২

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বগুড়ার সবচেয়ে বড় বিপণি বিতান ‘নিউ মার্কেট’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১১ জনের করোনা শনাক্তের পরদিন এ ঘোষণা এল। জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আফজাল রাজনের নের্তৃত্বে একটি টিম দুপুরে নিউ মার্কেটে গিয়ে তা কার্যকর করেন।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বলেন, ‘মার্কেট খোলার প্রথম দিন থেকে সেখানকার দোকানগুলোতে যেভাবে মানুষের ভিড় বাড়ছিল তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল।’। তিনি আরও বলেন, ‘এতে শহরবাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিলম্বে হলেও নিউ মার্কেট বন্ধের এই সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।’
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশের মত বগুড়ার নিউ মার্কেটসহ সকল বিপণি বিতান গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফায় বাড়িয়ে তা ১৬ মে পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বগুড়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন গত ২১ এপ্রিল পুরো জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ১২ মে পর্যন্ত এ জেলায় মোট ৫২জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ ১১জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।
রমজান ও ঈদে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ মে থেকে সারাদেশে বেশ কয়েকটি শর্তে সীমিত পরিসরে দোকান-পাট ও মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এসব শর্তের অন্যতম ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। তবে খোলার প্রথম দিনই বগুড়া নিউ মার্কেটে কেনা-কাটা করতে আসা মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। সেখানে বেচা-কেনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কাউকেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতেও দেখা যায়নি। বরং পছন্দের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিক্সসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদেরকে একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি এমনকি ঠেলাঠেলিও করতে দেখা গেছে। অনেকে তাদের শিশু সন্তানদের নিয়েও কেনাকাটা করতে আসেন। হাতে গোনা কয়েকটি বড় দোকানে বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে দেখা গেলেও অধিকাংশ দোকানিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় ন্যুনতম কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলার সাধারণ মানুষ রীতিমত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকেন। অনেকেই নিউ মার্কেট বন্ধের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখতে শুরু করেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, নিউ মার্কেটে কেনা-বেচার ক্ষেত্রে কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছিল না। তাই জনকল্যাণে সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



আরও পড়ুন

×