ক্ষেতলালে করোনার কারণে বেকার অধিকাংশ খামারি
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২০ | ০৩:৪৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনার কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অধিকাংশ পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে । ইতিপূর্বে লাভের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট বড় মিলে প্রায় ২ শতাধিক পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠলেও বিভিন্ন এলাকা লকডাউন থাকায় অধিকাংশ খামারের মালিক তাদের খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কর্মহীন হড়ে পড়েছেন খামারি ও কর্মচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার আশায় গ্রাম-গঞ্জে শিক্ষিত ও বেকার যুবকসহ ব্যবসায়ীরা বড় খামারের পাশাপাশি সল্প আয়ের লোকজন তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট ছোট পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ওই সব খামারিদের আর মুরগি পালন করতে আর দেখা যাচ্ছেনা। লকডাউনের শুরুর দিকে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা এলাকায় আসতে না পারায় অধিকাংশ খামারি লোকসানে পড়েন। সে কারনে খামারির তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের খামারি সোহাগ হোসেন আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে জানান, প্রতিটি ব্যবসায় লাভ লোকসান হয়। কিন্তু এ ব্যবসায় কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, বাজারের সাথে মুরগি উৎপাদনের নির্ধারনের সমন্বয় নেই। ফলে নিয়ন্ত্রনহীন বাজারে লোকসান খেয়ে পোল্ট্রি খামার বন্ধ করে এখন বেকার জীবন যাপন করছি।
এলাকার পোল্ট্রি খামার মালিক ফেরদৌস হোসেন জানান, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মুরগির জন্য দুইটি শেড নির্মান করে মুরগি পালন করেছিলেন। এতে কিছু লাভ হত। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ৫ হাজার মুরগি সময়মতো বিক্রি করতে না পেরে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি জানান, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের সঠিক সময়ে সরবরাহ না হওয়ার কারণে মুরগি পালন কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মুরগির বাজার ভালো হলেও আমার খামারে বিক্রির উপযোগী কোন মুরগি নেই।
উপজেলার শশী গ্রামের খামারী আব্দুল খালেক জানান,পোল্ট্রি খামারের ব্যবসা করে মহাজনদের কাছে অধিকাংশ খামারি জিম্মি। মহাজনেরা খামারিদের বাকিতে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ওষুধ সহ সকল উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। যে টাকার মুরগি উৎপাদন করা হয় তা বিক্রির সময় মহাজনেরা খামারিদের কাছ থেকে তাদের লাভসহ মুরগি কিনে নেয়। তিনি আরও জানান, খামারিরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত মুরগি বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, এক দিকে করোনাভাইরাস, অন্যদিকে মহাজনদের কাছে জিম্মি হওয়ার কারণে অনেকেই এ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ইটাখোলা বাজারের ফিড ব্যবসায়ী ও বাচ্চা সরবরাহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার কারণে অনেক খামার বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। আবার বিভিন্ন খামারির কাছ থেকে বাকী টাকাও উত্তোলন করা যাচ্ছেনা। সব মিলিয়ে উভয় সংকটের মধ্যে দিয়ে কোন মতে ব্যবসা ধরে রেখেছি।