ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রধান শিক্ষকের মাইকিং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রধান শিক্ষকের মাইকিং
×

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২০ | ০৭:৪৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনার এই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এক প্রধান শিক্ষক এলাকায় মাইকিং করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জনাসমাগম এড়ানোর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রধান শিক্ষকের এমন মাইকিংয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ মাইকিং করানো হয়। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মাইকিংয়ের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

জেঠাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে প্রায় ১০০ শতক জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১৯ জন। শিক্ষক আছেন ১৪ জন।  

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দুপুর থেকে অটোরিকশা করে এক যুবক মাইকিং করতে থাকে। ওই যুবকের হাতে একটি কাগজ ছিল। কাগজের লেখাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌকত ইসলামের হাতের। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাইকে বলা হয় , আগামী ১৮ মে সোমবার সকাল ১০টার সময় সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে হবে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এছাড়াও যারা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাদের রেজিস্ট্রেশনের টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। আদেশক্রমে প্রধান শিক্ষক সৌকত ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য জানান, ওই প্রধান শিক্ষক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আসতে বাধ্য করেছেন। 

তিনি আরো জানান, যারা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাদের রেজিস্ট্রেশনের টাকা পরিশোধ করতে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করেছেন। টাকা পরিশোধ করা হলেও তিনি নতুন করে আবার বিদ্যালয়ে আসার জন্য মাইকিং করিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌকত ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি মাইকিংয়ের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম সমকালকে জানান, বিভিন্নজনদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কেন ওই শিক্ষক এমনটি করলো সে বিষয়ে তার কাছে জবাব চাওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী বলেন, বিদ্যালয়ে আসতে মাইকিং করানোর বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

×