ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে আসছে আরেক বিপদ পাহাড়ধস

চট্টগ্রামে আসছে আরেক বিপদ পাহাড়ধস
×

ছবি দেখে মনে হচ্ছে কোনো আবাসিক এলাকা। বাস্তবে এটি চট্টগ্রাম নগরীর মতিঝর্ণা পাহাড়। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য কাঁচা-পাকা বসতঘর। পাহাড় হারিয়ে গেছে ঘরবাড়ির আড়ালে - সমকাল

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেই পাহাড় ধস ও প্রাণহানির আশঙ্কায় প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে নিতে চলে তোড়জোড়। ২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৯ জনের প্রাণহানির পর থেকে প্রতি বছরই বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এই তোড়জোড়টি দেখা যায়। কিন্তু পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরানো যায় না। ফলে ভারি বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ঘটে প্রাণহানিও।
এ বছরও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় এক মাসের মধ্যে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ সব ঘরের অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তিন মাসের বেশি হলেও সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে এ বছরও বর্ষায় পাহাড় ধস হলে যথারীতি মাটিচাপায় প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনা থেকে বাঁচতে পাহাড়েও লোকজন ঘরে থাকছে। তাই সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এবার পাহাড় ধস হলে প্রাণহানির ঘটনাও বেশি ঘটবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ২৮টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লোকজন বাস করছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি পাহাড়ের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন সাতটিতে ৩০৪ পরিবার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন অবশিষ্ট ১০ পাহাড়ে ৫৩১টি পরিবার বাস করছে। সরকারি পাহাড়গুলোর মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ওয়াসা এবং গণপূর্ত ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব সংস্থাকে কখনও লোকজনকে উচ্ছেদে উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।
জেলা প্রশাসনের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লোকজনকে সরিয়ে নিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্নিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চালানো হবে অভিযানও।
হাজার খানেক পরিবার পাহাড়ে বাস করছে বলা হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। নগরীর ২৮টি পাহাড়ে লাখ খানেক মানুষ বাস করছে। এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালী লোকজন এসব ঘর নির্মাণ করে বাণিজ্য করছেন।
নগরীর মতিঝর্ণা পাহাড় ও বাটালি হিলে দেখা যায়, দুটি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে কাঁচা-পাকা বসতঘর। এই পাহাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা পাকা ভবনও। এসব ঘরে রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। একটি মিটার থেকে ১০-১২ ঘরে দেওয়া হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্নিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর অসাধু কর্মচারীদের সহযোগিতায় এ কাজটি চলছে।
চট্টগ্রামে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে কাউকে বসবাস করতে দেবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, পাহাড় কাটার দায়ে চট্টগ্রামে ১৯২ মামলা হয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কাউকে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণ থেকে নিবৃত করা যাচ্ছে না।


আরও পড়ুন

×