নওগাঁয় কালবৈশাখীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, বজ্রপাতে যুবক নিহত
ধামইরহাট উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ। ছবি: সমকাল
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২০ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
নওগাঁয় মঙ্গলবার রাত ও বুধবার বিকেলে আরও দুই দফা কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এ সময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ইরি-বোরো ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে জেলার বেশ কয়েটি উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটেছে। পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে বুধবার বিকেলে বজ্রপাতে ধামইরহাট উপজেলার ওমরপুর গ্রামে আবু ইশা (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বড় বোন মনিষা বেগম (২৭)। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, আবু ইশা তার বোনের বাড়ি ওমরপুর গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে বোনের সঙ্গে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এসময় তার বড় বোন মনিষা বেগম আহত হন। তারা ধামইরহাট উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
গত সোমাবার সন্ধ্যায় প্রথম দফার কালবৈশাখীতে জেলার মান্দা, নিয়ামতপুর,পোরশা, সাপাহার ও বদলগাছী উপজেলা এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ে বহু ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে যায়। সেই সঙ্গে মৌসুমী ফল আমেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর মঙ্গলবার রাত ও বুধবার বিকেলে জেলার মহাদেবপুর,পত্নীতলা, ধামইরহাট, আত্রাই, রানীনগর ও সদর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে এসব এলাকার হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধামইরহাট উপজেলা। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলা সদরের ক্যান্টিন চত্ত্বর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বড় বড় গাছ বিদ্যুতের তারে উপড়ে পড়ে। এছাড়া রাস্তাঘাট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানে শত শত গাছ পড়ে যায়। ঝড়ের সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। এতে নিচু এলাকার পাকা ইরি-বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া ঝড়ে অনেক গাছের আম ও লিচু ঝরে গেছে। আবিলাম নামক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন আছে।
ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.সেলিম রেজা বলেন, 'উপজেলার পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে ধামইরহাট পৌরসভা, ধামইরহাট ও জাহানপুর ইউনিয়নে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৭ হেক্টর জমির ধান শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ২ হেক্টর নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাগানের আম ও লিচু ঝড়ে পড়েছে।
এদিকে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কলেজের পুরাতন ভবনের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস, সিসি ক্যামেরা ও কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার উপর দিয়ে তিন দফায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে, গাছপালা উপড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করা যায়নি।