রিচার্জের টাকা থেকে মিটারের ভাড়া কেটে নেওয়ায় ক্ষোভ
রিচার্জ করতে লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সামনে গ্রাহকের লাইন। ছবি: সমকাল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪ | ০৩:২৬
ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় বিপদে পড়েছেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুতের প্রিপেইড গ্রাহকরা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মিটার রিচার্জ করতে না পারায় বিদ্যুৎহীন রয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে আবার বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সমস্যাও দেখা দিয়েছে আগের মতো।
তবে ভোগান্তি কবে নাগাদ শেষ হবে তা জানা না থাকলেও রিচার্জ করতে অফিসে দেখা যাচ্ছে গ্রাহকদের লাইন। এভাবে গত তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সেবা পেয়েছেন জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অফিসের কর্মকর্তারা।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁর মিটারে টাকা শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। তখন নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে রিচার্জ করতে গিয়ে দেখেন, রিচার্জ হচ্ছে না। পরে বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টে গিয়ে রিচার্জ করতে গেলে সেখানেও একই পরিস্থিতি। দোকানি জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ হচ্ছে না, সার্ভারে সমস্যা দেখাচ্ছে। এরপর লক্ষ্মীপুর পিডিবির গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে গিয়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মিটারে রিচার্জ করেছেন। ততক্ষণে তিন ঘণ্টা তাঁর দোকান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। রিচার্জ করার পর বিদ্যুৎ আসে।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের লামচরী এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে তাঁর বিদ্যুতের রিচার্জ করতে গেলে ২০টি সংখ্যা আসত। ওই সংখ্যা সহজে রিচার্জ করা যেত। এখন ১০০টি সংখ্যা আসছে। সবকটি লিখে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এতে ভুল হচ্ছে, মিটারও লক হয়ে যাচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সমসেরাবাদ লামচরী গ্রামের বাসিন্দা সফিকুর রহমান (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিডিবি বিদ্যুৎ অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার একটি কার্ড (বিদ্যুৎ বিলের জন্য দেওয়া আগাম টাকা জমা দেওয়ার রসিদ) নিতে পেরেছেন। কার্ড রিচার্জ করার পর বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন মাত্র ৩৫১ টাকা ১৯ পয়সা। মিটার ভাড়া কেটেছে ৪০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ১০ টাকা, ডিমান্ড চার্জ ৭৫ টাকা ও ভ্যাট বাবদ কাটা হয়েছে ২৩ টাকা ৮১ পয়সা। তিনি বলেন, এর আগে ৩০০ টাকার একটি কার্ড কিনে পেয়েছিলেন ১৫০ টাকা।
প্রিপেইড মিটারে বাড়তি কোনো লোড দেওয়া যায় না জানিয়ে পৌর শহরের শাঁখারীপাড়ার জহির হাওলাদার বলেন, পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার লাগানোর সময় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বলেছিলেন, মিটারের জন্য কোনো মূল্য নেওয়া হবে না। অথচ এখনও প্রতি মাসে রিচার্জ করা টাকা থেকে মিটারের ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পিডিবি লক্ষ্মীপুর অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি প্রিপেইড মিটার কিনতে তাদের খরচ পড়েছে ৪৮ ডলার। সেই সঙ্গে ৩০ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে একজন সিঙ্গেল ফেজ মিটারের গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে মিটারের জন্য ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে দিতে হবে, যা গ্রাহকদের মাসিক রিচার্জ করা টাকা হতে কেটে নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বলেন, তাদের বিদ্যুতের প্রিপেইড গ্রাহক ৩৬ হাজারের বেশি। গ্রাহকদের জন্য অফিসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রিচার্জ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তা ছাড়া গ্রাহকরা ইচ্ছে করলে এখন ব্যাংকে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল প্রিপেইড সেবা নিতে পারবেন।
- বিষয় :
- লক্ষীপুর
