কোনো বাধা মানবো না
মনের জোরেই জয়ী
×
শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
ওদের কারও চোখে নেই আলো। স্বাভাবিক মানুষের মতো নয় তাদের চারপাশ। শারীরিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ছিল নানা সংকট। পরীক্ষার সময় পায়নি শ্রুতিলেখক। আছে পারিবারিক অসচ্ছলতাও। তবে এসবের কিছুই বাধা হতে পারেনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর ভালো ফল করার ব্রত নিয়ে তারা চালিয়ে গেছে লেখাপড়া। ওদের মনের জোরের কাছে হার মেনেছে চোখের অন্ধকার।
এই গল্প চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৯ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে প্রশংসিত হচ্ছে তারা। ভালো ফল পেয়ে ওদের কেউ স্বপ্ন দেখছে শিক্ষক হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে আইনজীবী কিংবা সমাজসেবক হওয়ার। এসব যোদ্ধার লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলে খুশি শিক্ষকরা। আনন্দের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের মা-বাবাসহ পরিবারে সদস্যদের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ রাসেল পেয়েছে জিপিএ ৪ দশমিক ৫৬, দুই বোন তাসমীন আক্তার সুইটি ও আসমাউল হুসনা পেয়েছে ৩ দশমিক ৯৪, তাসলিমা লিমা ৩ দশমিক ৭২, মোহাম্মদ তুষার ৩ দশমিক ৩৩, মোহাম্মদ ফরিদ ৩ দশমিক ৬, মোহাম্মদ সোহেল রানা ও নয়নতারা আক্তার ২ দশমিক ৯৪ এবং বেবী দে ২ দশমিক ৫। চট্টগ্রামের সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মুরাদপুরের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও লোহাগাড়া চুনুতি উচ্চবিদ্যালয় থেকে তারা এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, 'চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে ভালো ফল করেছে। স্বাভাবিক অনেক শিক্ষার্থী যেখানে ফেল করছে, সেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া অনেক বড় ব্যাপার । তাদের ফলে আমরা আনন্দিত। আশা করছি, এবারের ফল তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।'
চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চায় সোহেল রানা। সে সমকালকে জানায়, 'বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আমি সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই। এবার পুরোপুরি প্রস্তুতি নিলেও সঠিক সময়ে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। তার পরও এবারের ফল দিয়ে আগামীর পথ পাড়ি দিতে চাই।'
পারিবারিক অসচ্ছলতার মধ্যেও ভালো ফল করা তুষার বলল, 'পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে মামার টাকা দিয়েই চালিয়ে গেছি পড়ালেখা। এত কিছুর পরও ভালো ফল করতে পারায় আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে সমাজসেবক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।' মোহাম্মদ রাসেল বলল, 'শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আমার। এবারের ফল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস জোগাবে।' দুই বোনের মধ্যে তাসমীন আক্তার সুইটি হতে চান আইনজীবী। আর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আসমাউল হুসনার।
তাদের শিক্ষক মো. আবদুস সামাদ সমকালকে বলেন, 'করোনার এই দুঃসময়ে ভালো ফল উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের মাঝে খুশির বন্যা বইয়ে দিয়েছে। তাদের ইচ্ছাশক্তি আর মনের জোরের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দেশের উন্নয়নে তারাও অবদান রাখতে পারবে।'
এই গল্প চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৯ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে প্রশংসিত হচ্ছে তারা। ভালো ফল পেয়ে ওদের কেউ স্বপ্ন দেখছে শিক্ষক হওয়ার, কেউ স্বপ্ন দেখছে আইনজীবী কিংবা সমাজসেবক হওয়ার। এসব যোদ্ধার লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলে খুশি শিক্ষকরা। আনন্দের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের মা-বাবাসহ পরিবারে সদস্যদের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ রাসেল পেয়েছে জিপিএ ৪ দশমিক ৫৬, দুই বোন তাসমীন আক্তার সুইটি ও আসমাউল হুসনা পেয়েছে ৩ দশমিক ৯৪, তাসলিমা লিমা ৩ দশমিক ৭২, মোহাম্মদ তুষার ৩ দশমিক ৩৩, মোহাম্মদ ফরিদ ৩ দশমিক ৬, মোহাম্মদ সোহেল রানা ও নয়নতারা আক্তার ২ দশমিক ৯৪ এবং বেবী দে ২ দশমিক ৫। চট্টগ্রামের সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, মুরাদপুরের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও লোহাগাড়া চুনুতি উচ্চবিদ্যালয় থেকে তারা এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, 'চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে ভালো ফল করেছে। স্বাভাবিক অনেক শিক্ষার্থী যেখানে ফেল করছে, সেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া অনেক বড় ব্যাপার । তাদের ফলে আমরা আনন্দিত। আশা করছি, এবারের ফল তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।'
চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চায় সোহেল রানা। সে সমকালকে জানায়, 'বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আমি সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই। এবার পুরোপুরি প্রস্তুতি নিলেও সঠিক সময়ে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। তার পরও এবারের ফল দিয়ে আগামীর পথ পাড়ি দিতে চাই।'
পারিবারিক অসচ্ছলতার মধ্যেও ভালো ফল করা তুষার বলল, 'পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে মামার টাকা দিয়েই চালিয়ে গেছি পড়ালেখা। এত কিছুর পরও ভালো ফল করতে পারায় আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে সমাজসেবক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।' মোহাম্মদ রাসেল বলল, 'শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আমার। এবারের ফল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস জোগাবে।' দুই বোনের মধ্যে তাসমীন আক্তার সুইটি হতে চান আইনজীবী। আর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আসমাউল হুসনার।
তাদের শিক্ষক মো. আবদুস সামাদ সমকালকে বলেন, 'করোনার এই দুঃসময়ে ভালো ফল উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের মাঝে খুশির বন্যা বইয়ে দিয়েছে। তাদের ইচ্ছাশক্তি আর মনের জোরের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দেশের উন্নয়নে তারাও অবদান রাখতে পারবে।'