হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে নামানোয় চট্টগ্রামে তোলপাড়
বিক্ষোভ মিছিলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা- সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:০০
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার মঞ্চ থেকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বন্দরনগরীতে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
রোববার মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চে ডেকে নেন। প্রায় ১৫ মিনিট মঞ্চে বসেছিলেন তিনি। পরে সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তাকে নামিয়ে দেন। বিষয়টি গড়িয়েছে কেন্দ্র পর্যন্ত। এ নিয়ে মেয়র নাছিরের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
অনেক দিন ধরে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব কিছুটা কমে এসেছিল। হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ায় তা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। চার হাজার নেতাকর্মীর সামনে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর এ ঘটনায় মর্মাহত হন অনেক নেতাকর্মী। সভা চলাকালেই নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু ও নগর আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন ধর কেন এভাবে হাসিনা মহিউদ্দিনকে অপমানিত করা হলো তা জানতে চান।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঘটনাটি জানার পর মেয়র নাছিরের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হাসিনা মহিউদ্দিনকে কেন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো তা জানতে চান তিনি।
তবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, মঞ্চে কারা কারা বসবেন তা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তিনি সঞ্চালক হিসেবে বারবার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরও কেউ কেউ মঞ্চে উঠেছেন। তবে তিনি কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণও করেননি। শুধু অনুরোধ করে মঞ্চে কারা বসবেন, সেই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, 'মঞ্চের ঘটনায় অহেতুক মহিউদ্দিন ভাইকে টেনে আনা হচ্ছে। আমি যেটা করেছি, তা দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে করেছি। এখানে অন্যকোনো বিষয় নেই।'
২০১৩ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নাছির উদ্দীনের মধ্যে বিরোধ ছিল। নগর আওয়ামী লীগে তাদের দুটি গ্রুপও রয়েছে। তবে মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর নগর আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কমে আসে। বিশেষ করে মহিউদ্দিনের ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল কোন্দলের রাজনীতিতে আগ্রহ দেখাননি। মেয়র নাছিরও দলে ঐক্যের ডাক দেন। সবাইকে নিয়ে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ফলে মহিউদ্দিনপন্থি হিসেবে পরিচিত অনেক নেতাকর্মীও তার ডাকে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে শুরু করেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটল।
হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রাকবহর নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন। এ সময় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। এমইএস কলেজ, ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। মিছিল-সমাবেশে কার্যত গতকাল দিনভরই উত্তাল ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।