ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রেলের জমিতে রাতারাতি ঘরবাড়ি

রেলের জমিতে রাতারাতি ঘরবাড়ি
×

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাস এড়াতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে রেলের জায়গা উদ্ধারে চট্টগ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। অভিযানের অংশ হিসেবে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় নগরীর আমবাগান পুবালী মাঠ এলাকায়। কিন্তু সাধারণ ছুটির মধ্যে সে জায়গায় রাতারাতি নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক স্থাপনা। এর বেশিরভাগই বসতঘর।
একইভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয় নগরীর সিআরবি ও এর আশপাশ এলাকায়। উচ্ছেদ করা হয় বিভিন্ন ধরনের অন্তত ৫০০ স্থাপনা। দখলমুক্ত করা হয় মূল্যবান তিন একর জায়গা। কিন্তু বন্ধের সুযোগে এখানেও ফের বেহাত হয়ে গেছে সেই জায়গা। দখলদাররা সিআরবি এলাকায় নতুন করে গড়ে তুলেছে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা।
শুধু আমবাগান ও সিআরবি এলাকাই নয়; এভাবে রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলোনি, সিগন্যাল কলোনি, টাইগারপাস, পাহাড়তলী ভেলুয়ার দীঘি, হালিশহর, আকবর শাহ, কলমী দীঘিপাড়, পুরাতন পোর্ট মার্কেটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছর করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত অভিযানে ৩৬ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু এসব জায়গার বড় একটি অংশ বেহাত হয়ে গেছে। ফের বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে বসতঘর, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। উদ্ধার করা জায়গার পাশাপাশি বেহাত হয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গাও।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে রেলের জায়গা দখলমুক্ত করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে এগুলো ধরে রাখা যাচ্ছে না। করোনায় বন্ধের মধ্যে রেলের জায়গা দখল হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এ জন্য রেলের ভূ-সম্পদ বিভাগের পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবিকেও নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো নজরদারি না থাকায় রাতারাতি 'হরিলুট' হয়ে গেছে রেলের শত শত কোটি টাকার মূল্যবান ভূ-সম্পদ। এসব জায়গায় নানা স্থাপনা নির্মাণ করে বাণিজ্য করছে এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালী লোকজন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খোদ রেলের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বেহাত হয়েছে এসব।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর আমবাগান পুবালী মাঠের আশপাশে রেলের জায়গা ফের দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে তিন ভায়রা ভাই- আবদুল মালেক, আবুল কাশেম, মো. মনুসহ আরও কয়েক দখলদার। সাদ্দাম হোসেন নামে মালেকের ছেলে আরএনবিতেই চাকরি করে। আর মো. শহীদ নামে আবুল কাশেমের এক ছেলে দলবল তৈরি করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। ফলে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।
বন্দর এলাকায় রেলওয়ের প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রায় ৪৫ একর জায়গা দখল করে সেখানে একাধিক রিসোর্ট ও কৃষি খামার গড়ে তুলেছিল চট্টগ্রামের আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বাবরের সেই সাম্রাজ্যে অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ সব স্থাপনা। শুধু এখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৩ দশমিক ৫ একর জায়গা। ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে এটিই ছিল বড় অভিযান। এভাবে আরও অভিযান চালিয়ে জায়গা দখলমুক্ত করা হলেও তা ধরে রাখা যাচ্ছে না। জায়গা নিয়ে রেলওয়ে ও দখলদারদের মধ্যে এক ধরনের 'চোর-পুলিশ' খেলা চলছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুবুল করিম সমকালকে বলেন, 'বেদখল হয়ে যাওয়া রেলের জায়গা উদ্ধারে অক্টোবর থেকে টানা অভিযান চলছিল। আমরা বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ জায়গা দখলমুক্ত করেছি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে। যারা এসব স্থাপনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'








আরও পড়ুন

×