ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি, নমুনা সংগ্রহে গড়িমসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি, নমুনা সংগ্রহে গড়িমসি
×

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ০৬:২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির দিকে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এপ্রিল এবং মে মাসে জেলায় ১২১ জনের করোনা পজেটিভ আসে। অথচ চলতি জুন মাসের প্রথম ১২ দিনে ২৮৫ জনের পজেটিভ আসে। গত তিন দিন (শনি, রবি ও সোমবার বিকেল নাগাদ) কোনো ফলাফল আসেনি। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ফলাফল নেওয়া সদর উপজেলাতে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নমুনা সংগ্রহ হওয়া আশুগঞ্জ উপজেলাতে আক্রান্তের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। 

এদিকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলা সদরে নমুনা সংগ্রহে গড়িমসির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের চারটি লকডাউনকৃত এলাকায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা টিম থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোন চিকিৎসা টিম দেখা যায়নি। লকডাউনকৃত এলাকায় নমুনা সংগ্রহের কথা বললেও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেন তাতে কর্ণপাত করছেন না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা বাড়ি বাড়ি যেতে চাচ্ছেন না। লোকজন হাসপাতালে গিয়ে স্বেচ্ছায় নমুনা দিচ্ছেন । 

গত শুক্রবার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসা ফলাফলের তালিকা থেকে দেখা যায়,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৬ হাজার ৫৮৫ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ফল আসে পাঁচ হাজার ৪১৩ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ৪০৬ জন।

আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র ৪৩ জন প্রাতিষ্ঠানিক ও ২৭৯ জন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এরই মধ্যে মারা গেছেন ছয়জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার নাসিরনগর উপজেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা ৬২৭ জনের মধ্যে ২৩ জনের করোনা পজেটিভ আসে। সরাইলে নমুনা নেওয়া ৪২৯ জনের মধ্যে ২১ জন, আশুগঞ্জে ৩৭৮ জনের মধ্যে ১৮ জন, সদরে ১৫১০ জনের মধ্যে ১১৪ জন, বিজয়নগরে ৪৭০ জনের মধ্যে ১৪ জন, আখাউড়ায় ৫৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন, কসবায় ৮৭৬ জনের মধ্যে ৬৩ জন, নবীনগরে ১২০২ জনের মধ্যে ৯৫ জন, বাঞ্ছারামপুরে ৫৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন করোনায় আক্রান্ত।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সদরে দুইজন, আখাউড়ায় দুইজন, নবীনগরে একজন ও নাসিরনগরে একজন মারা গেছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের অবনতির দিক বিবেচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নবনীগর ও কসবা পৌরসভায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের চারটি (পূর্ব পাইকপাড়া, কালাইশ্রীপাড়া, মধ্যপাড়া ও কাজী পাড়া) এলাকাকে শনিবার রাত থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন করা হয়। নবীনগর পৌরসভায় যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ি, সাহাপাড়া ও শীতলপাড়া এলাকাকে লকডাউন করা হয়েছে।

এদিকে  প্রশাসন থেকে জারি করা গণ বিজ্ঞপ্তিতে লকডাউনকৃত এলাকায় প্রয়োজনে বাড়ি গিয়ে  করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবার কথা বলা হলেও তা দেওয়া হচ্ছে না।

গত রোববার দুপুরে পৌর এলাকার কাজীপাড়ার এক নারীর তার উপসর্গ থাকার কথা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেনকে জানালেও কোনা লাভ হয় নি।  তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে নমুনা আনা সম্ভব না। হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিতে হবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. মো. শওকত হোসেনের বলেন, লকডাউনকৃত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কথা। তিনি ডা. শাখাওয়াত হোসেনের আচরণে দুঃখ প্রকাশ করেন। 

আরও পড়ুন

×