ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয়!

ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয়!
×

নারী ইউপি সদস্যের লাগানো সেই ফলক। ছবি: সমকাল

মোস্তাফিজুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ০৯:৩১ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ | ১২:০৬

ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। আর প্রায় ৪ লাখ ব্যয়ে ওই ঈদগাহ মাঠ হয়েছে এলাকাবাসীর অর্থায়নে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওশুতি বাজার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ। প্রকল্পটির কাজ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেই বাস্তবায়ন করার কথা। প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় বড়হিত ইউনিয়নে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রওশন আরাকে।

কিন্তু এলাকাবাসী ও যুবসমাজ উদ্যোগ নিয়ে মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে ব্যবসায়ী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। সেই টাকায় গত রমজানের মধ্যে মাসজিদের সামনের ঈদগাহ মাঠ পাকা করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাজের মধ্যে রোববার সন্ধ্যার পর মাঠের কোনায় একটি ফলক স্থাপন করেন প্রকল্প সভাপতি রওশন আরার স্বামী রফিকুল ইসলাম। পরে সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন মসজিদ মাঠে গিয়ে ফলক দেখে অবাক হয়ে যান। স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ফলকটি সরিয়ে নেন ওই নারী সদস্য।

এর আগে গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও নওশুতি বাজার জামে মসজিদটির উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। ওই প্রকল্পটিরও প্রকল্প সভাপতি ছিলেন রওশন আরা। অভিযোগ রয়েছে- বারদ্দের অর্ধেক টাকারও কাজ হয়নি। মসজিদের সামনে বারান্দা কারার জন্য চার বান্ডেল ঢেউটিন ও কিছু কাঠ দেন প্রকল্পের টাকা থেকে। গত অর্থবছরে কিছু কাজ হলেও বর্তমান অর্থবছরে কোনো কাজ না করেই শুধু ফলক সাঁটিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় যুবক জাহিদুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মিলে উদ্যোগ নিয়ে মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু তাতে জেলা পরিষদের ফলক লাগিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন নারী ইউপি সদস্য। এর আগেও নামকাওয়াস্তের কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই নারী।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহফুজুল হক বলেন, মসজিদের জন্য কিছু কাজ করে দেওয়ার জন্য নারী সদস্য একটি প্রকল্প আনবেন বলে জানান তাকে। ঈদের আগে তাকে ২০ হাজার টাকাও দিয়ে গেছেন। গেল অর্থবছরেও সম্পূর্ণ কাজ না করে কিছু টিন ও কাঠ দেন। বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে বাকি টাকার হদিস নেই। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রওশন আরা বলেন, তাকে প্রকল্প গুলো পাইয়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আঞ্জুমান আরা। প্রকল্প দেওয়ার সময় তার সাথে চুক্তি ছিলো বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে হবে। গত অর্থবছরে তিনি ৯০ হাজার টাকা পেয়ে নিজের কাছ থেকে আরও ৫ হাজার টাকা যুক্ত করে মসজিদের বারান্দার কাজ করেছেন। এ অর্থ বছরে বরাদ্দ পাওয়ার পর দেখেন ঈদগাহ মাঠের কাজ হয়ে গেছে। ওই অবস্থায় ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ৫০ হাজার টাকা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আঞ্জুমান আরাকে দিয়ে বাকি টাকা নিজে নেন। সেখান থেকে ২০ হাজার টাকা মসজিদ কমিটির সভাপতিকে ও ২০ হাজার টাকা নিজের স্বামী ও গোয়ালের গরু অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা করিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেই নাম ফলকটি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু লোকজনের চাপের মুখে ফলকটি সরিয়ে নিয়েছেন।

জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আঞ্জুমান আরা বলেন, গত অর্থ বছরের কাজ যথাযথভাবেই হয়েছে। বর্তমান অর্থ বছরে মাঠের জন্য বরাদ্দ দিলেও আগেই মাঠ নির্মাণ হয়েছে। ওই অবস্থায় মাঠের অন্যান্য কাজ করতে প্রকল্প সভাপতিকে বলা হয়েছে। বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তাকে দিতে হয়- প্রকল্প সভাপতির এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘এর কি কোনো প্রমাণ আছে’।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ থেকে কি ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয় এবং কারা কাজ করে সে বিষয়ে জেলা পরিষদ তদারকি করে। তাদের কিছু জানানো হয় না। মসজিদের বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর অনুকুলে পাঠানো হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সচিব সুমনা আল মজিদ বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×