নীড়হারা পাখিদের পাশে র্যাব
গাছে বাসা বেঁধেছে পাখি- ফাইল ছবি
আবদুল লতিফ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী)
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৪৯
আমবাগানে বাসা বেঁধে দারুণ আনন্দে ছিল পাখিগুলো। সারাদিন মনের আনন্দে খাবারের খোঁজে উড়ে বেড়াত আর কিচিরমিচির করে ভাববিনিময় করত নিজেদের মধ্যে। বিশাল আমবাগানে তাদের দিন কাটছিল দিব্যি।
কিন্তু একদিন বাগানের মালিক আতাউর রহমানের মনে হলো, বড় বেশি জ্বালাতন করছে হতচ্ছাড়া পাখিগুলো। বাগান নষ্ট করছে। সুতরাং তাড়াতে হবে এদের।
পাখিগুলোর বাসা ভাঙতে গিয়ে স্থানীয় এক পাখিপ্রেমী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন তিনি। পরে এ খবর পৌঁছে যায় রাজশাহী র্যাব-৫-এর সদস্যদের কাছে। অ্যাডিশনাল ডিআইজি (সিও) মাহফুজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, পাখিদের বাসা ভাঙা যাবে না।
এ ঘটনা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের। গ্রামের আমবাগানে বাসা বানানো পাখিদের পাশে দাঁড়িয়েছে র্যাব। সেখানকার পাখিদের সব দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরোলে তা দেখে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ র্যাব-৫-এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমানকে পাখিদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বুধবার মাহফুজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, পাখির বাসাগুলো কখনও ভেঙে দেওয়া যাবে না। র্যাবের মহাপরিচালকের নির্দেশে পাখি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেবে র্যাব। বাগান মালিকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পাখিরা যাতে থাকতে পারে এবং বাগান মালিকেরও যাতে ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও র্যাবের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন এই কর্মকর্তা।
পাখিপ্রেমী রফিকুল ইসলাম বলেন, এই গ্রামের মুকুল, ছানা ও শফিকুল ইসলামের আমবাগানের বেশ কিছু আমগাছে কয়েক হাজার পাখির বাসা রয়েছে। সব বাসাতেই বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাগুলো উড়তে শিখতে অন্তত আরও এক মাস সময় লাগবে। তিনিসহ কয়েকজন গিয়ে আতাউর রহমানের কাছে আপত্তি জানানোর পরে ১৫ দিন সময় দেন তিনি।
আম ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, সাত লাখ টাকা দিয়ে তিনি শতাধিক আমগাছ দুই বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। প্রায় ২৫টি গাছে শামুকখোল পাখিরা বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। গত বছর পাখি থাকার কারণে তার আম নষ্ট হয়েছে। এবার আমগাছ পরিচর্যা করতে চান। এ জন্য পাখির বাসা ভেঙে গাছে ওষুধ ছিটাতে চান। পাখিপ্রেমীদের প্রতিরোধের মুখে মঙ্গলবার থেকে পাখিদের জন্য ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছেন।
এ দিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়ের প্রয়োজনীয়
নির্দেশনার আরজির পরিপ্রক্ষিতে আমবাগানে থাকা পাখির বাসাগুলো ভাঙা যাবে না
বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই এলাকা কেন অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে
না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- রাজশাহীতে পাখি