ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটিয়ায় চার শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক গ্রেপ্তার

পটিয়ায় চার শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক গ্রেপ্তার
×

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:০৩

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাদ্রাসার চার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদীয়া ত'লীমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুর এবং ফারুক চৌধুরীকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিনসহ একদল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় যৌন নিপীড়নের শিকার এক শিশুর মা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম ফারুক চৌধুরী তার কক্ষ ঝাড়ূ দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। তারা ভয়ে মুখ না খুললেও অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর চোখে তা ধরা পড়ে। গত বৃহস্পতিবার কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে তৃতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে কক্ষে ডেকে নেন তিনি। এ সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবক ও গৃহশিক্ষক জিয়াউর রহমানকে জানায়। পরে এ নিয়ে অভিযুক্ত ফারুক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক চৌধুরী জানান, তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ মাদ্রাসা নিয়ে স্থানীয় শিল্পপতি লোকমান হাকিমের বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে লোকমান এলাকার লোকজনকে উস্কে দিয়ে মাদ্রাসা ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। একইভাবে যৌন নিপীড়নের এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এক শিশুর মা এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার হয়েছে।  বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন

×