বালিয়াকান্দিতে ৩ দিন বয়সী কন্যা সন্তান বিক্রির অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ০৩:৩৯ | আপডেট: ২২ জুন ২০২০ | ০৩:৪৮
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ৫০ হাজার টাকায় তিন দিনের কন্যা সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। রোববার উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তুলশী বরাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের সাহিবুল ও তার স্ত্রী। বছর দুয়েক আগে তারা নিজেদের আরও একটি কন্যা সন্তান বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দম্পতিকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহিবুল দম্পতির পরপর দুটি ছেলে জন্মগ্রহণ করে। যাদের একজনের বয়স ছয় বছর, অন্যজনের বয়স চার। ছেলে দুটি তাদের কাছেই আছে। বছর দুয়েক আগে ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পরে তারা শিশুটিকে উপজেলার বেরুলি গ্রামেরএক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। সর্বশেষ রোববার তাদের তিন দিন বয়সী কন্যা শিশুটিকে সাতক্ষীরা জেলার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন।
সাহিবুলের মা জমিরন বিবি জানান, তার ছেলে সাহিবুল ও পুত্রবধূ দুজনই মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না। এ কারণে সাতক্ষীয় তাদের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের কাছে শিশুটিকে দেয়া হয়েছে। কত টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওরা খুশী হয়ে যা দেয়।
সাহিবুলের ভাইয়ের স্ত্রী আম্বিয়া বেগম জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিন দিনের কন্যা শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য সাতক্ষীরায় জনৈক এক ব্যক্তিকে দিয়েছেন। টাকার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে ওই দম্পতি ইতিপূর্বে আরও একটি কন্যা সন্তানকে বিক্রি করা করেছেন এটা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, ভাসুর সাহিবুলের দুই ছেলেকে তারাই লালন পালন করছেন।
সাহিবুল ও তার স্ত্রীর জানান, ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারেন না। এ কারণে তাদেরকে দিয়েছেন।
জামালপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম আজাদ জানান, এর আগেও তারা একটি কন্যা সন্তান বিক্রি করেছে। খোঁজ খবর নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালাবেন বলে জানান তিনি।
জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সর্দার জানান, যারা সন্তান নিয়েছেন তাদেরকে ফেরত দিয়ে দিতে বলেছি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, শিশু সন্তান বিক্রি সামাজিক অপরাধ। যদি কেউ পালন করার জন্য নিয়ে থাকে সেটা আইনানুযায়ী নেওয়া উচিত ছিল। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ছয় বছরের ব্যবধানে ওই দম্পতির চার সন্তান জন্ম নেয়ায় এলাকাবাসী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসএম আল কামাল জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে। একটি এনজিওকে বিষয়টির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- রাজবাড়ী
- সন্তান বিক্রির অভিযোগ
- কন্যা সন্তান