ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে মিলেমিশে দখল

চট্টগ্রামে মিলেমিশে দখল
×

চট্টগ্রামে দখলের পর ভাঙা হয়েছে মসজিদের অংশ - সমকাল

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ১২:০০

চট্টগ্রামের বায়েজিদ-বাংলাবাজার এলাকার ত্রাস, ১০ মামলার আসামি সন্ত্রাসী আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী ওরফে কানা কুদ্দুস। যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত তিনি। একই এলাকার আরেক সন্ত্রাসী ছালে আহম্মদ জিয়া ওরফে ছালে। তিনি যুক্ত যুবদলের সঙ্গে। তবে দুই মেরুর বাসিন্দা হলেও দখলবাজি ও ভাগাভাগিতে একাট্টা এ দুই সন্ত্রাসী। করোনাকালে তারা এবার মিলেমিশে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার সমবায় অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত পূর্বাচল আবাসিক সোসাইটির কোটি টাকার মসজিদের সাত কাঠা জায়গা দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মসজিদের এ জায়গায় বহুতল ভবন করার পরিকল্পনা করছেন এ দুই সন্ত্রাসী। জমি দখলের অভিযোগে নগরের বায়েজিদ থানায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছে হাউজিং সোসাইটি। তাদের বিরুদ্ধে বায়েজিদের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কাটা, খুন, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে একাধিক মামলা ও বহু অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নগরের বায়েজিদ থানার ওসি প্রিটন সরকার সমকালকে বলেন, সন্ত্রাসী কুদ্দুস ও ছালের বিরুদ্ধে সোসাইটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে কাউকে পাওয়া না গেলেও মসজিদের একাংশ ভাঙা অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। এরা টিনের স্থাপনা ভেঙে সেখানে নতুন বহুতল ভবন তৈরি করতে চায় বলে জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি জানান, তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
পূর্বাচল সমবায় হাউজিং সোসাইটির সভাপতি মো. দিদারুল আলম বলেন, করোনাকালে পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবদল নামধারী ছালে ও যুবলীগ নামধারী কানা কুদ্দুসরা সোসাইটির মসজিদের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। বাধা দেওয়ার চেস্টা করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এসএম হারুণ চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসী কুদ্দুস ও ছালে মসজিদের জায়গা দখল করে নেওয়ার পর বায়েজিদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। তারা সন্ত্রাসী ও একাধিক খুনের মামলার আসামি হওয়ায় আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু করতেও পারছি না।
অভিযুক্ত যুবলীগ নামধারী আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী ওরফে কানা কুদ্দুস বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষজন চাইছে, সোসাইটির মানুষজনও চাইছে এখানে বহুতল ভবন হোক। তাই সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষ থেকেই টিনের ঘরটি ভেঙে বহুতল ভবন করতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখন সোসাইটি না চাইলে বহুতল ভবন করব না। এক প্রশ্নের জবাবে কুদ্দুস জানান, তিনি সোসাইটির সদস্য নন; কিন্তু ওখানে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন।
আরেক অভিযুক্ত ছালে আহম্মদ জিয়াকে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সরকার থেকে জায়গা নিয়ে ১৯৮৮ সালে বায়েজিদ-বাংলাবাজার এলাকায় একটি আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়। পরে সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদনে পূর্বাচল সমবায় বসতি সোসাইটি নামে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গঠিত হয়। সেখানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী ছয় একর জায়গায় ৫০টি প্লট, খেলার মাঠ ও মসজিদের জন্য পৃথক জায়গা রাখা হয়। সোসাইটির অনুমোদিত লে-আউট প্যানেল অনুযায়ী মসজিদের জন্য ৫০ নম্বর প্লটটি নির্ধারিত রয়েছে। এ প্লটে মসজিদ ও তার আশপাশে প্রায় সাত কাঠা জায়গা রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। সোসাইটি মসজিদের প্লটে একটি টিনশেড মসজিদ রয়েছে। করোনাকালে মানুষজনের মসজিদে যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ায় বাইরে থেকে গিয়ে কানা কুদ্দুস ও ছালে দু'জনে মিলে মসজিদ ও প্লটে থাকা জায়গা দখল করে নেন। এখন তারা মসজিদটি বহুতল ভবন করবেন বলে ভেঙে ফেলছেন। সোসাইটির মানুষ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে দখল বজায় রেখে ওই জায়গা কাজ করতে শুরু করেন তারা।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুন সোসাইটির জমি দখল করায় নগরের বায়েজিদ থানায় আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী ওরফে কানা কুদ্দুস, ছালে আহম্মদ জিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এসএম হারুণ চৌধুরী। প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসী কানা কুদ্দুসের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যাসহ ১০ মামলা রয়েছে। ছালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, জায়গা দখলসহ চারটি মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×