পাবনায় গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডে ২ মাস পর আদালতে মামলা
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:০৬ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:২৬
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের গৃহবধূ আশা খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই মাস পর মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আশার বাবা জাহিদুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে পাবনার ৬ নম্বর আমলি আদালতে পাঁচজনকে আসামি করে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
বিচারক মো. মুরাদ জাহান মামলাটি গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য ফরিদপুর থানার উপর দায়িত্ব দেন।
মামলার আসামিরা হলেন– ফরিদপুর উপজেলার গোলকাটা গ্রামের নিহত আশা খাতুনের ননদের জামাই মো. সাইফুল ইসলাম ব্যাপারী, জা জাহানারা খাতুন, আরেক ননদের জামাই হোসেন আলী ও আরেক জা আঙ্গুরি খাতুন এবং প্রতিবেশী তাইজুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোলকাটা গ্রামের প্রয়াত আজহার আলীর তিন ছেলের মধ্যে বাকী মিয়া ও হাসিনুর রহমান ওরফে হুজ্জুতুল্লাহ মালয়েশিয়া এবং ছফর আলী সিঙ্গাপুরে থাকেন। বাকী মিয়ার স্ত্রী জাহানার খাতুন (৩৫), হাসিনুর রহমান ওরফে হুজ্জুতুল্লাহর স্ত্রী আঙ্গুরি খাতুন (৩০) এবং ছফর আলীর স্ত্রী আশা খাতুন (২৫) একই বাড়িতে থাকতেন। ওই বাড়ির দেখাশোনা করতেন সাইফুল ইসলাম।
জাহিদুল ইসলাম বাবু এজাহারে উল্লেখ করেন, ওই বাড়ির জামাই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে জাহানারা ও আঙ্গুরির পরকীয়ার সর্ম্পক ছিল। আগস্ট মাসের কোনো একদিন আশা জা জাহানারার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাইফুলকে দেখে ফেলেন। ২ সেপ্টেম্বর সাইফুলের সহায়তায় জাহানারা ও আঙ্গুরি জোর করে আশাকে বিষ পান করায়। মুমূর্ষু অবস্থায় আশাকে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ৭ সেপ্টেম্বর আশা মারা যায়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে তালবাহানা করেন। ওসি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি মীমাংসার জন্য ফরিদপুর উপেজলা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন গোলাপকে দায়িত্ব দেন। গোলাম হোসেন গোলাপ এক সালিশে আশার মেয়ে আরিকা আফসানা তাহিয়ার নামে ৯ শতাংশ জমি এবং দুই লাখ টাকা দিতে বলেন। আসামিরা দুই লাখ টাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার কাছে দেওয়ার জন্য দেন। কিন্তু ওই টাকা তিনি পাননি।
ফরিদপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, আদালতে মামলা গ্রহণের বিষয়টি এখনও তারা অবহিত নন। মামলা এলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- আশা খাতুন
- হত্যাকাণ্ড
- গোপালনগর গ্রাম
- বিষ পান