ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নাটারে ঢাবিছাত্রী সুমাইয়া হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর গ্রেফতার

নাটারে ঢাবিছাত্রী সুমাইয়া হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর গ্রেফতার
×

গ্রেফতার মোস্তাক ও বাবা জাকির হোসেন -সমকাল

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০ | ০৬:২৯

নাটোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনকে হত্যা মামলার আসামি পলাতক স্বামী মোস্তাক ও শ্বশুর জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতোপূর্বে এই হত্যা মামলার অপর দুই আসামি নিহতের শাশুড়ি ও ননদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। 

জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাটোরের সীমান্ত এলাকা রাজশাহীর বাঘা থেকে মোস্তাককে এবং শ্বশুর জাকির হোসেনকে বগুড়ার নন্দিগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়। 

দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। তিনি জানান, নিহতের মা বাদি হয়ে মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার বাড়ি থেকে শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা ও ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন জুথিকে গ্রেফতার করে। তখন থেকে পলাতক ছিলেন সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক ও শ্বশুর জাকির হোসেন।

সুমাইয়ার মা জানান, তার মেয়ের স্বপ্ন ছিল ভাল ফলাফল করে শিক্ষকতা করার। মৃত্যুর পর ফল প্রকাশ পেয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতোকত্তোরে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৪৪ পেয়ে পাশ করেছেন। সুমাইয়ার পড়াশোনার ইচ্ছা মেনে নিতে না পেরে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামী-শ্বশুরসহ পরিবারের লোকজন।

নিহতের পরিবার জানায়, শহরের বলাড়িপাড়া এলাকার ইসলামি বক্তা মরহুম সিদ্দিকুর রহমান যশোরীর মেয়ে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিসিএসের প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। সুমাইয়ার পড়াশোনা ও চাকরি নিয়ে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন নিয়মিত তাকে নির্যাতন করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, ঢাবির মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার মোস্তাকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ২০১৪ সালে মোস্তাককে বিয়ে করেন সুমাইয়া। বেকার মোস্তাক বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শশুরবাড়ি থেকে চাহিদামত টাকা না পাওয়ায়। তিনি সুমাইয়াকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বারবার চাপ দেন। কিন্তু বাবার মৃত্যূর পরে সুমাইয়া তার স্ট্রোকে আক্রান্ত মায়ের কাছে টাকা না চেয়ে নিজেই কিছু একটা করার চিন্তা করছিলেন। এজন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার। সেই ইচ্ছাই তার কাল হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত সোমবার রাতে সুমাইয়াকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে স্বামীর পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় সুমাইয়ার মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা করলে পুলিশ শাশুরি ও ননদকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে মোস্তাক হোসেনকে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম ও শশুর জাকির হোসেনকে রাজশাহীর বাঘা থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া হত্যা মামলাটি জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।


আরও পড়ুন

×