ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে দ্বন্দ্ব

রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
×

রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল। ছবি- সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৩৩

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কর্মবিরতিতে গেছেন শ্রমিকরা। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগের দিন রাতেও এক ঘণ্টা আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে হঠাৎ করে বাস বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অগ্রিম টিকিট কাটা থাকলেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না তারা; কাউন্টারে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠন করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন উপলক্ষে সভা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে মালিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম প্রস্তাব হলে প্রতিবাদ জানায় শ্রমিক পক্ষ। পরে ওই সভা প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।

সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বেশ কয়েক মাস ধরে। তাদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলা হয়।

জানা যায়, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিসহ তাঁর অনুসারীরা সেদিন টার্মিনাল এলাকায় বোমাবাজি করে। এই পাখিকেই সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা গত মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট ডাকেন। তখন জেলা প্রশাসক গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ঈদের পর নির্বাচন হবে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন আয়োজন করতে গত সোমবার বিকেলে নিজের কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বসেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় ছিলেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল; শ্রমিক নেতা পাখি তাঁর অনুসারী। তাদের বিরোধী শ্রমিক নেতারা সংগঠনের সাধারণ সভা করে নির্বাচনী বোর্ড গঠনের পরমার্শ দেন জেলা প্রশাসককে।

কিন্তু সে সময় সাধারণ সভা করা সম্ভব হবে না বলে জানান জেলা প্রশাসক। কয়েকজনের কথা শোনার পর তিনি নজরুল ইসলাম হেলালসহ পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে একটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করে দেন। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকরা ডিসির সামনেই বাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে চলে আসেন।

এদিকে ডিসির কার্যালয় থেকে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করেন কিছু শ্রমিক। চেম্বারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সেই রাতে শুধু দূরপাল্লার দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও গ্রামীণ ট্রাভেলস যাত্রী নিয়ে চলে যায়। সকাল থেকে বাস চলাচল একেবারে বন্ধ থাকে।

শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন সমকালকে বলেন, ‘ডিসি স্যার একটা পক্ষ নিয়েছেন। তিনি দু-একজনের কথা শুনেই নজরুল ইসলাম হেলালকে রেখে কমিটি করলেন। তিনি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। হেলাল ও পাখির পক্ষেরই ২৪ জনকে এই সভায় ডেকেছিলেন জেলা প্রশাসক।’ এই শ্রমিক নেতার দাবি, ‘নজরুল ইসলাম হেলাল মালিক। তিনি শ্রমিকদের নির্বাচনের কমিটিতে থাকতে পারেন না।’

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটা আমরা দেখছি।’ রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘তারা আমার চেম্বারে হামলা-লুটপাট করে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা মালিক পক্ষ। আমরা বলছি, বাস চলাচল করবে।’

আরও পড়ুন

×