ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বগুড়া সিভিল সার্জন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত

বগুড়া সিভিল সার্জন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত
×

ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী- সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০ | ১০:৩৪

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসন মিশু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের ওই দুই কর্মকর্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘তারা দুইজনই আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে সিভিল সার্জন ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী যেহেতু পরিবারের সদস্য ছাড়া কর্মস্থলে একাই অবস্থান করেন সে কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।’

বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম করোনার সংক্রমণের তথ্য জানা যায়। তার পর থেকে চিকিৎসক, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে শুরু করেন। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ৮৬তম দিনে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার আক্রান্ত হলেন।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৫১৬জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩জনের আর সুস্থ হয়েছেন ২৮৩জন।

গত মার্চ মাচের শেষ সপ্তাহে বগুড়ায় নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। শুরুতে তা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে গত ২০ এপ্রিল থেকে স্থানীয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) পিসিআর ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণ শুরু হয়। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয় এবং ৩১ মে থেকে সেখানে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়।

বগুড়ার ওই দুটি ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি করে মোট ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে সারা জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ নমুনা আসছে। যে কারণে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ২৪ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬ হাজার ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৪টি নমুনা।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, করোনার উপসর্গ থাকায় ২৪ জুন সিভিল সার্জন ডা.গাওসুল আজিম চৌধুরী এবং বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সামির হোসেন মিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বিকেলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, তার গায়ে জ্বর এবং গলা ব্যথা রয়েছে। তিনি বলেন,‘আমি বাসাতেই আইসোলেশনে রয়েছি।

অন্যদিকে সিভিল সার্জনের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তার ডেপুটি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘স্যারের ফ্যামিলি ঢাকায় থাকে। তিনি তার দপ্তরের ওপর তলায় একটি কক্ষে বসবাস করেন। স্যারের এমনিতেই কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যেহেতু তিনি একা থাকেন সে কারণে আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি।’


আরও পড়ুন

×