ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

গোয়ালন্দে ৬ ইঞ্চি জমির জন্য ‘আত্মহত্যা’ যুবকের

গোয়ালন্দে ৬ ইঞ্চি জমির জন্য ‘আত্মহত্যা’ যুবকের
×

পাপন সাহা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২০ | ০৫:১৫

মাত্র ৬ ইঞ্চি জমির জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক যুবক।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ রেলস্টেশন এলাকায় পাপন সাহা (২৪) নামের ওই যুবক আত্মহত্যা করেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের পাশে ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার সীমান প্রচীর সংলগ্ন রেলের জায়গায় দোকানসহ বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে পাপন সাহা ও তার পরিবার।

সম্প্রতি থানার সীমানা প্রাচীরের উপরে ইটের দেয়াল তুলে বসত ঘর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আনলে পাপন সাহাকে বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান থানায় ডেকে নেন। একপর্যায়ে থানার সীমানা প্রচীর থেকে একফুট দুরে ঘর নির্মাণের মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে আত্মহত্যা করে পাপন। তার বাবা প্রয়াত অশোক সাহা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে থানার সীমানা থেকে দূরে ঘর নির্মাণের চাপ পুলিশের অপরদিকে ওই ভাবেই ঘর নির্মাণের চাপ পরিবারের। এতে হতাশ হয়ে পাপন সাহা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা বলেন, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রাখার খবর শুনে

বৃহস্পতিবার দুপুরেই আমি থানায় যাই। কিন্তু থানায় ওসিকে না পেয়ে ফোনে কথা বলি। এসময় তিনি বলেন- আমি এসে পাপনের সাথে কথা বলে ছেড়ে দিব। পরবর্তীতে বিকেলে আমার ছেলেকে পাঠালে ওসি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে পাপন আমাকে ফোনে জানায়- ওসি থানার সীমানা থেকে একফুট দূরে ঘর তুলতে বলেছেন। এ সময় আমি তাকে বলি, ‘ওসি সাহেবের সাথে আমি কথা বলব, তুমি ৬ ইঞ্চি দুরে ঘর নির্মাণ কাজ কর।’ এরপর রাতে পাপনের আত্মহত্যার সংবাদ শুনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা বলেন, পাপন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আমাকে জানায়- থানা থেকে তাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। আমি সরেজমিন এসে দেখতে পাই, থানার সীমানা প্রাচীরের সাথে তারা ঘরের দেয়াল তুলেছে এবং উপরের টিন অনেকখানি থানার সীমানার মধ্যে ঢুকে গেছে। এসময় আমি তাদের পরামর্শ দেই, থানার সীমানার ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে আনার জন্য।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালের দিকে বিষয়টি আমার নজরে আসে। তখন আমি মৌখিকভাবে এভাবে ঘর তোলার বিষয়ে নিষেধ করি। কিন্তু তারা আমার কথা না রাখায় বিষয়টি আমি ওসি স্যারকে অবগত করি। তিনি পাপন সাহাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন। এসময় জরুরি একটি অভিযানে আমরা সবাই বেরিয়ে পড়ি। পরবর্তীতে থানায় ফিরে মুচলেকা নিয়ে পাপন সাহাকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

এদিকে পাপন সাহার মা পুষ্প রানী সাহা বলেন, পুলিশ আমার ছেলেকে থানায় আটকে রাখায় অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, পাপন সাহাকে থানা হেফাজতে রেখে জরুরি প্রয়োজনে আমারা একটু বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তার সাথে কোনও প্রকার খারাপ আচরন কেউ করেনি। তাকে শুধু বলা হয়েছে থানার সীমানা প্রাচীর থেকে অন্তত এক ফুট দূরে স্থাপনা নির্মাণ করতে। এ কারণে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তা বিশ্বাস করা যায়না। তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×