মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরখাস্ত
মো. রফিকুল ইসলাম রেনু- ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জ অফিস
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০ | ০৭:৩৯
বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করার অপরাধে বিচারাধীন থাকা মামলার আসামি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এর উপজেলা-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ এর বিরুদ্ধে জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার অপরাধে দায়েরকৃত মামলা নং-১০৯/০১ (পাকুন্দিয়া থানার মামলা নং-১৫(৬)৯৯, জিআর -২৪৯(২)৯৯) এ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হয়ে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালত, কিশোরগঞ্জে বিচারাধীন আছে; এবং যেহেতু হত্যা মামলার একজন আসামি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকলে পরিষদের প্রতি জনসাধারণের শ্রদ্ধা ও আস্থা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের হানিকর তথা জনস্বার্থের পরিপন্থী; সেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায়, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ [উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১] এর ১৩খ(১) ধারা অনুসারে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, কে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো; এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও উপ-সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মো. রফিকুল ইসরাম রেনুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি ‘সমকাল’কে নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, এর আগে গত ২৮ মে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক সেলিম হত্যা মামলার একজন আসামি (মামলা চলমান), অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানসহ ৯জন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এদিকে রফিকুল ইসলাম রেনুর বরখাস্ত হওয়ার খবরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। রোববার দুপুরে নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে থানাগেইটের সামনে থেকে ঘুরে এসে একই স্থানে শেষ হয়। এ সময় বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, চণ্ডিপাশা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো.মঈন উদ্দিন, সাবেক পৌরকাউন্সিলর আসাদ মিয়া, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি নাজমুল হক দেওয়ান, আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন ও আসাদুজ্জামান ডিলারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দীতা করে মো. রফিকুল ইসলাম রেনু দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।