ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

খুলনায় ২ পাটকল শ্রমিক নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

খুলনায় ২ পাটকল শ্রমিক নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০ | ০৬:২৭

খুলনায় সদ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকলের দুই শ্রমিক নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে ওই দুজনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই শ্রমিক নেতা হলেন ইস্টার্ন জুট মিলের শ্রমিক ও পাট শিল্প রক্ষা যুব জোটের আহবায়ক অলিয়ার রহমান এবং প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের শ্রমিক ও পাট শিল্প রক্ষা যুব জোটের উপদেষ্টা নূর ইসলাম।

অলিয়ার রহমানের ছেলে নাঈম শেখ জানান, রোববার রাত আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকার বাড়িতে কয়েকজন লোক এসে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। তাদের হাতে ওয়ারলেস ও রাইফেল ছিল। আমরা দরজা খুললে তারা বলে বাবাকে নিয়ে মিলে যাবে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে নিয়ে গাড়িতে করে চলে যায়। আমরা থানায় খোঁজ নিয়েছি, তারা বলেছে রাতে তাদের কোনো অভিযান হয়নি।

নূর ইসলামের ছেলে মো. জুয়েল বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কিছু লোক আমাদের খালিশপুরের বিআইডিসি রোডের বাসায় আসেন। এ সময় তারা বলতে থাকেন, দরজা খুলুন আগুন লেগেছে। তখন আমরা তাদের বলি আপনারা কারা, তারা বলে আমরা ফায়ার সার্ভিসের লোক। তারপর  চোখের পলকে বাবাকে নিয়ে চলে যায়। আমরা অনেকভাবে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করি কিন্তু তারা কোনো পরিচয় দেয়নি।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, শুনেছি মিলের কিছু বদলি শ্রমিক বাম দলের লোকের সঙ্গে খালিশপুরে গোপনে সভা করেছে। তাদের কেউ কেউ আটক হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তারা আমাদের নেতা না। মিলের শ্রমিকরা এখন শান্ত। যদি নিয়ে যায় তবে কারা ধরে নিয়ে গেছে, কী কারণে ধরে নিয়ে গেছে তা আমি জানি না।

এদিকে তাদের গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা শাখার সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু ও  সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম।

এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো শ্রমিক নেতাকে আটক করিনি। 

খালিশপুর থানার ওসি মো. সাব্বিরুল আলম বলেন, আমরা কোনো শ্রমিক নেতাকে আটক করিনি। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। 

আরও পড়ুন

×