ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মহাকাব্যিক কামব্যাকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা 

মহাকাব্যিক কামব্যাকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা 
×

লাফিয়ে মেসির উদযাপন। সঙ্গী সতীর্থরা। ছবি: এপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৩:০৩ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২৭

কামব্যাকের কোন গল্প নই, মহাকাব্য লিখতে বসেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে কামব্যাক করে জয়ের হাসি হেসেছেন লিওনেল মেসিরা। ফাইনালের লড়াইয়েও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে পুঁচকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারতে বসেছিল। অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া ম্যাচে কামব্যাক করে জয়ের গল্প লেখে আকাশি-সাদারা। মিসরের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ২-০ গোলে পিছিয়েও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সেরা জয় পায় আর্জেন্টিনা। এরপর সুইসদের বিপক্ষে লিড নিয়ে তা হারানোর পর কামব্যাক করেছিল লিওনেল স্কালোনির দল। 

বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কোন দল। শারীরিক ফুটবলে মেতে ওঠে দুই দল আক্রমণের চেয়ে একে অপরকে ফাউলই বেশি করেছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইংল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড অ্যান্তোনিও গর্ডন দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের বাড়ানো দারুণ এক ক্রস ওয়ান টাচে জালে পাঠান তিনি।

হতাশ হ্যারি কেইন। ছবি: এপিপিছিয়ে পড়তেই আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ায়। ইংল্যান্ডের অর্ধে চাপ বাড়াতে শুরু করে। দীর্ঘদেহি ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের বিপক্ষে ক্রস খেলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ইংলিশরা একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রক্ষণের দৃঢ় দেয়াল তুলে রেখেছিল। কিন্তু ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ বক্সের বাহির থেকে জায়গা পেয়ে জোরের ওপর শট নেন। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড লাফিয়েও বলের কাছে যেতে পারেননি। সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ তখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে যাবে এমনই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নকআউটের আগের তিন ম্যাচে কামব্যাক করে আসা আর্জেন্টাইনরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। যেন গল্পের পট তাদের লেখা, জানা। সমতায় ফিরলেও তাই আক্রমণের ধার কমাননি মেসিরা। যার ফল ম্যাচের ৯২ মিনিটে ঘরে তোলে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। এনজোকে গোল করানো মেসি ডানপ্রান্ত থেকে দারুণ একটা ক্রস তোলেন। আন মার্ক থাকা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্টিনেজ হেড করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। পুরো দলের পাশাপাশি গ্যালারিতে আকাশি-সাদার ঢেউ তোলেন। তার ওই গোলেই শেষ পর্যন্ত আরেকটি ফাইনালে পা রেখেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সকে পাত্তা না দিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা স্পেন তাদের প্রতিপক্ষ। ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংলান্ড ও ফ্রান্স মুখোমুখি হবে।

আরও পড়ুন

×