এক্সপ্লেইনার
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কেন বারুদের উত্তাপ ফিরে আসে
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
সাদিকুর রহমান
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৩০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২০:০৩
ফকল্যান্ডস যুদ্ধের (১৯৮২) পর থেকে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচগুলোতে খেলার পাশাপাশি সবসময়ই এক ধরনের রাজনৈতিক আবহ বা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করেছে। যে বৈরিতা উপহার দিয়েছে অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি। যা বিশ্ববাসীকে একই সঙ্গে উপহার দিয়েছে বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।
দুই দেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক আবেগের সংযোগটিতেও আসে দিয়েগো ম্যারাডোনার নাম। পারস্পরিক সম্পর্ককে ইতিহাস কতটা গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তা ম্যারাডোনার একটি মন্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা এমির কুস্তুরিকার বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘ম্যারাডোনা বাই কুস্তুরিকা’-তে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পাওয়ার স্মৃতিচারণ করেছেন ম্যারাডোনা। সেখানে তিনি বলেন, ‘একদিন তারা আমাকে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমি সরাসরি মানা করে দেই। এত রক্ত লেগে থাকা কোনো হাতের সঙ্গে আমি কখনোই করমর্দন করব না। কখনোই না।’

ম্যারাডোনা কেন এমনটা অনুভব করেছিলেন এবং আজও কেন দুই দেশের ফুটবল ম্যাচ খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যরকম এক তাৎপর্য বহন করে, তা বুঝতে ফিরে যেতে হবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে। অর্থাৎ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের চার বছর আগে- ১৯৮২ সালে।
দ্বীপপুঞ্জ ও ঝোড়ো বাতাস
ফুটবলের আগে দুই দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছিল শতাধিক দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশরা দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিল।
হিস্ট্রি ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৯২ সালে ব্রিটিশ নাবিক জন ডেভিস সম্ভবত প্রথম এই দ্বীপপুঞ্জটি দেখতে পান। ১৬৯০ সালে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জন স্ট্রং প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দ্বীপে অবতরণ করেন। তৎকালীন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরালটির ফার্স্ট লর্ড ভিসকাউন্ট ফকল্যান্ডের নামানুসারে এই দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করা হয়।

ফরাসি নাবিক লুই-অ্যান্তনি দো বুগেনভিল পূর্ব ফকল্যান্ডে মানুষের প্রথম বসতি স্থাপন করেন ১৭৬৪ সালে, যা পরে ১৭৬৭ সালে স্প্যানিশরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশরা পশ্চিম ফকল্যান্ডে বসতি স্থাপন করলেও ১৭৭৪ সালে অর্থনৈতিক কারণে তা ছেড়ে চলে যায়। ১৮১১ সালে স্পেনও তাদের বসতি পরিত্যাগ করে।
১৮১৬ সালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮২০ সালে ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। আর্জেন্টাইনরা পূর্ব ফকল্যান্ডে একটি দুর্গ তৈরি করেছিল, কিন্তু ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজ আটকে রাখার প্রতিশোধ হিসেবে ১৮৩২ সালে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস লেক্সিংটন দুর্গটি ধ্বংস করে দেয়। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে অবশিষ্ট থাকা আর্জেন্টাইন কর্মকর্তাদের বিতাড়িত করে এবং সামরিক দখলদারত্ব শুরু করে।
১৮৪১ সালে দ্বীপপুঞ্জে একজন ব্রিটিশ লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১৮৮০-এর দশকের মধ্যে দ্বীপটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষের একটি স্বনির্ভর ব্রিটিশ সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। পাল্টাপাল্টি দখলের সেই ঝড়ো বাতাসের মধ্যেই ১৮৯২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে সম্মিলিতভাবে ঔপনিবেশিক মর্যাদা দেওয়া হয়।
এরপর যুদ্ধ ও আত্মসমর্পণ
পরের ৯০ বছর ধরে ফকল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। ১৯৮১ সালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি গণভোটের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনে থাকার পক্ষে রায় দেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগ্রত করা এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে লেফটেনেন্ট জেনারেল লিওপোল্ডো গালতিয়েরির নেতৃত্বাধীন জান্তা সরকার ফকল্যান্ডস আক্রমণের পরিকল্পনা করে। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে আর্জেন্টিনা সাউথ জর্জিয়া দ্বীপ দখল এবং ২ এপ্রিল ফকল্যান্ডসে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করে। ওই অভিযানে তারা বেশ কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ঘটনায় ব্রিটেন ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দ্বীপপুঞ্জটি পুনরুদ্ধারের জন্য ৩০টি যুদ্ধজাহাজের একটি নৌ-প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন। ব্রিটেন থেকে ফকল্যান্ডসের দূরত্ব প্রায় ৮ হাজার মাইল হওয়ায় যুদ্ধজাহাজগুলোর সেখানে পৌঁছাতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়।
ফকল্যান্ডসের চারপাশে কয়েকটি তীব্র নৌ-যুদ্ধের পর, ২১ মে ব্রিটিশ সেনারা পূর্ব ফকল্যান্ডে অবতরণ করে। কয়েক সপ্তাহের লড়াই এবং শতাধিক প্রাণহানির পর ১৪ জুন আর্জেন্টিনার সেনারা আত্মসমর্পণ করে। সেদিনই ওই সংঘাতের অবসান ঘটে।
রাজনৈতিভাবে নড়বড়ে অবস্থানে থাকা মার্গারেট থ্যাচার ওই যুদ্ধে জয়ের পর শক্ত ভিত্তি খুঁজে পান। একই সঙ্গে তিনি পরিচিত হন ‘আইরন লেডি’ হিসেবে।
প্রতিশোধ ও ম্যারাডোনা
যুদ্ধের প্রায় চার বছর পর আবারও ব্রিটিশদের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে সমস্ত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

ম্যাচের মাত্র চার মিনিটে ম্যারাডোনা ফুটবলের ইতিহাস চিরতরে বদলে দেন। এই কিংবদন্তি তাঁর প্রথম গোলটি হাত দিয়ে করেছিলেন, যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়। সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমি কীভাবে গোলটি করেছি? কিছুটা মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই তিনি ওই জয়কে যুদ্ধের পর খেলাধুলার মাঠে এক ধরনের প্রতিশোধ হিসেবে বিবেচনা করতেন।
শিহরণ জাগানো ধারাভাষ্য
‘হ্যান্ড অব গডের’ মাত্র চার মিনিট পর ম্যারাডোনা করেন শতাব্দী সেরার স্বীকৃতি পাওয়া গোল। ইউটিউবে ফিফার চ্যানেলে এর একটি ভিডিও আছে। যেখানে দেখা যায়, মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে চারজন ইংলিশ খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে তিনি ওই গোলটি করেছিলেন।
স্প্যানিশ ভাষায় গোলের মুহূর্তটির ধারাভাষ্য আজও বিখ্যাত হয়ে আছে। ইউটিউবে সেটির একটি ভিডিও ক্লিপে শোনা যায়, উরুগুয়েন ধারাভাষ্যকার ভিক্টর হুগো মোরালেসের কণ্ঠ। যেখানে ফুটবলের সঙ্গে জাতীয়তাবাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ওই ধারাভাষ্যের বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায় এমন- ‘ম্যারাডোনার কাছে বল, দুজন তাঁকে মার্ক করছে, ম্যারাডোনা বলের ওপর পা রাখলেন, বিশ্ব ফুটবলের এই বিস্ময় প্রতিভা ডান দিক থেকে দৌড় শুরু করলেন, তিনি সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং গোল!’
হুগো মোরালেসের পরের কথাগুলো জাতীয়তাবাদের শিহরণ জাগানোর জন্য যথেষ্ট। তিনি বলতে থাকেন, ‘আমি কাঁদতে চাই! হে ঈশ্বর, ফুটবল দীর্ঘজীবী হোক! এটা দেখে চোখের জল ধরে রাখা যায় না...। হে কসমিক কাইট (ম্যারাডোনাকে উদ্দেশ্য করে) তুমি কোন গ্রহ থেকে এসেছ। এতজন ইংরেজকে এভাবে পরাস্ত করে তুমি পুরো আর্জেন্টিনাকে মুষ্টি বদ্ধ চিৎকারের উপলক্ষ্য দিয়েছো। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই ফুটবলের জন্য, ম্যারাডোনার জন্য, এই আনন্দ অশ্রুর জন্য। আর্জেন্টিনা ২, ইংল্যান্ড ০।’
ওই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে শেষ হয় এবং ম্যারাডোনার নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
লাল কার্ড ও পেনাল্টি
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বর্তমান কোচ দিয়েগো সিমিওনে ওই ম্যাচে খেলেছিলেন। তাঁকে ফাউল করে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেভিড বেকহাম।

সিবিএস স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, সে ম্যাচে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি শুটআউটে জয়লাভ করে। হারের জন্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বেকহাম। তবে চার বছর পর তিনি মধুর এক প্রতিশোধ নেন।
২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আবারও মুখোমুখি হয় এই দুই দল। বেকহাম পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। ওই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে যায় থ্রি-লায়ন্সরা। অপরদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জেতানোর কারণে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বীরের মর্যাদা পান বেকহাম।
ফিরে আসা বারুদের উত্তাপ
চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সামনে ভিন্ন দুই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে হ্যারি কেইনরা ৬৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে চান। আর লিওনেল মেসিদের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ছুঁয়ে দেখার আরেকটি উপলক্ষ্য পাওয়া।
এমন একটি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বুধবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো ম্যাচের প্রতীকী গুরুত্বকে লুফে নিয়েছে।
চাঞ্চল্যকর খবরের শিরোনামের জন্য পরিচিত টেলিভিশন চ্যানেল ‘ক্রনিকা’ এক অনুষ্ঠানের ক্যাপশনে লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনা বনাম ইংরেজ জলদস্যু’ এবং ‘মেসি, এম ফর মালভিনাস’। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জটিকে স্প্যানিশ ভাষায় মালভিনাস বলা হয়।

অন্যদিকে ক্রীড়া দৈনিক ‘ওলে’ লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল রঙের জার্সি পরে মাঠে নামবে। ঠিক যেভাবে তারা ১৯৮৬ সালে খেলেছিল।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ফুটবল ক্লাব ‘গোদোয় ক্রুজ’ তাদের স্টেডিয়ামে কিছু ব্যানার ঝুলিয়েছে। এই ব্যানারগুলো ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা ইংল্যান্ড সমর্থকদের কাছে থেকে কেড়ে নিয়েছিল।
‘এটি শুধুই খেলা’
ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছেন, ‘বাস্তবতা হলো এটি কেবলই একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি সব কিছুকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে চাই না। বিশেষ করে এমন কিছু বিষয় যা অনেক আগে ঘটেছিল।’
স্কালোনি আরও বলেছেন, ‘সেটি আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত দুঃখজনক একটি সময় ছিল। এখন সেটি নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, ব্যস এটুকুই।’