মিঠাপুকুরে অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
স্বজনেরা ক্লিনিক ঘেরাও করে- সমকাল
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০২:২৯ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০২:৪১
মিঠাপুকুরে অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রসূতির পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে রাশেদ মন্ডল তার স্ত্রী আকলিমা বেগম সাথিকে (৩০) সোমবার দুপুরে গড়েরমাথা নামকস্থানে রয়েল হেলথ সিটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবেনা। অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান) করে প্রসব করাতে হবে। তাদের কথা মত সন্ধ্যায় ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অস্ত্রোপচারের সময় ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যায় প্রসূতি।
প্রসূতির শাশুড়ি মিনি বেগম জানান, আমাদের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে রুম থেকে মরদেহ বের করে তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠায় ক্লিনিকের কর্মীরা। এরপর রংপুর শহরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে, মৃত্যুর ঘটনা জানার পর বাড়িতে খবর দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করে বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর ক্লিনিকের লোকজন পালিয়ে যায়।
নিহতের শ্বশুর আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, বউমা যেহেতু মারাই গেছেন। তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবেনা। তাই, থানা পুলিশ করা হয়নি। অভিযোগও করা হয়নি কারও বিরুদ্ধে।
রয়েল হেলথ্ সিটি হাসপাতালের সবাই পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মালিক কিংবা ব্যবস্থাপকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, আপেল নামে একজন কর্মকতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক বলেছেন-‘ওই রোগী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।’ আর হাজারে দুই একটা রোগী মারা যেতেই পারেন।’
মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আইনগত সহায়তার জন্য সব কিছু প্রসেস করা হয়েছিল। কিন্তু, নিহতের পরিবার কোন অভিযোগ দেয়নি। তাই, মামলা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এমনকি নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দেয়নি।’
- বিষয় :
- অস্ত্রোপচার
- ক্লিনিক ঘেরাও
- প্রসূতির মৃত্যু