সালিশে মীমাংসা না হওয়ায় ২০ ঘণ্টা ঘরেই পড়ে রইলো গৃহবধূর মরদেহ
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ০০:০৮ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২০ | ০১:৩৩
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে সালিশি বৈঠকে কোনো মীমাংসা না হওয়ায় প্রায় ২০ ঘণ্টা মরদেহ ঘরেই পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের লালুয়াপাড়ায় শ্বশুবাড়িতে তানজিলা খাতুন (২৫) নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মোজদার হোসেনের ছেলে বাবুল হোসেনের (২৮) স্ত্রী।
তানজিলার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও তানজিলার বাবা রেজাউল করিম তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তোলেন। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মরদেহ বাড়িতে রেখেই তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তানজিলার বাবার বাড়ির লোকজনের নিয়ে থানা পুলিশকে না জানিয়ে সালিশি বৈঠকে বসেন। স্থানীয় গ্রাম্য প্রধান ফরজ আলীর বাড়িতে প্রায় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বৈঠক চললেও তাতে কোনো মীমাংসা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই গৃহবধূর মরদেহ তার শ্বশুরবাড়িতেই পড়ে ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ওই সালিশি বৈঠকে ইউপি সদস্য আছালত হোসেন,
মেয়ে পক্ষের আত্মীয় শরীফ হোসেন , তোরাব আলী, গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুরসহ
অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি সদস্য আছালত হোসেন বলেন, মেয়ে পক্ষ সালিশি বেঠকে ২ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্ত ছেলে পক্ষ দেড় লাখ টাকা দিতে চাইলে বৈঠকে কোনো মীমাংসা হয়নি।
লাশের খবর থানায় না জানানো প্রসঙ্গে ওই ইউপি সদস্য বলেন, 'একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের সব জায়গায় যেতে হয়।'
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধূর শ্বশুর তাড়াশ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। এর পরপরই গৃহবধূর বাবা তাকে জানান তিনি থানায় এসে তার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার মামলা করবেন।
ওসি আরও জানান, ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
- বিষয় :
- সিরাজগঞ্জ
- গৃহবধূর মরদেহ
- মীমাংসা
- রাজশাহী
- তাড়াশ
