উদ্যোগ
বনের হাতি বনে রাখতে তৈরি হচ্ছে বাড়ি
×
চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে হাতির অবাধ চলাচল -ফাইল ফটো
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
পাহাড় আর বনাঞ্চলই হচ্ছে 'হাতির বাড়িঘর'। তবে বন্যহাতির গা ঢাকা দেওয়ার মতো সেই আবাসস্থল এখন আর আগের মতো নেই বললেই চলে। নেই খাবারও। নির্বিচারে পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি ঘন বন-জঙ্গল সাফ করে ফেলার ফলে আবাস হারিয়ে দিশেহারা হাতির পাল যখন-তখন নেমে আসছে লোকালয়ে। ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্টের পাশাপাশি কখনও কখনও পিষ্ট করে মারছে মানুষও। আবার কখনও এসবে অতিষ্ঠ হয়ে হাতিকেই মেরে ফেলছে মানুষ। এ অবস্থায় বনের হাতি বনে রাখতেই বানানো হচ্ছে 'হাতির বাড়ি'।
লোকালয়ে বন্যহাতির আসা ঠেকাতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে 'ওয়ার্ল্ড লাইফ প্রটেক্টেড করিডর'। এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুই রেঞ্জের দুই হাজার একরে করা হচ্ছে পরিকল্পিত বিশেষ বনায়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বনাঞ্চলে হাতির গা ঢাকা দেওয়ার মতো আবাস ও খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ফলে লোকালয়ে নেমে আসবে না হাতি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দুটি রেঞ্জের আওতায় ৮২৫ হেক্টর বা দুই হাজার ৬২ একর এলাকায় প্রায় ১২ লাখ চারা লাগানো হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর খাদ্যের উপযোগী প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদও রোপণ করা হচ্ছে এ বনায়নে। এর মধ্যে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৮০ একর বা ৭২ হেক্টর এলাকায় প্রটেক্টেড করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০ একর পাহাড়ি এলাকায় বন বিভাগ এবং অবশিষ্ট ৩০ একরে বনায়ন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও কাজ করছে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে প্রতি হেক্টরে দুই হাজার ৫০০ করে গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। মোট চারা লাগানো হচ্ছে এক লাখ ৮০ হাজার। আর বন্যপ্রাণীর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে লাগানো হচ্ছে জারুল, তেলশুর, চাপালিশ, বট, ঢাকি জাম, পুতি জাম, কালো জাম, গর্জন, বর্তা, কদম, বৈলামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। এসব গাছে হাতির পাশাপাশি অন্যান্য পশুপাখিরও আবাস তৈরি হবে।
কক্সবাজারে হাতিসহ বন্যপ্রাণী রক্ষায় পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নাম হচ্ছে 'প্রটেক্টেড এরিয়া ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর' বনায়ন। এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে বন্যহাতির আবাস ও খাবারের কোনো অভাব হবে না।
আর প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী বিভাগে চুনতি ও জলদি রেঞ্জে হাতিসহ বন্যপ্রাণীর উপযোগী বনায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। তিনি বলেন, গত দুই-আড়াই বছরে চট্টগ্রামে অনেক হাতি মারা গেছে। বেশিরভাগ হাতি মারা হয়েছিল ইলেকট্রিক শক দিয়ে ও ফাঁদে ফেলে। হাতি রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে চলতি জুন পর্যন্ত ২৩টি হাতি মারা গেছে। অন্যদিকে হাতি ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ফরেস্টের (আইইউসিএন) তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মারা গেছে আটটি হাতি। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে মারা গেছে ১১টি হাতি এবং কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে মারা গেছে ছয়টি হাতি।
সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা বন বিভাগের চকরিয়া-লামা সীমান্তের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় মারা গেছে বেশিরভাগ হাতি। সর্বশেষ গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ির অভ্যারখীল পাহাড়ে হাতি মেরে গোপনে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
আইইউসিএনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন বলেন, কীভাবে বিপন্ন প্রাণী হাতি রক্ষা করা যায় সেটি মাথায় রেখে নানামুখী পরিকল্পনা নিতে হবে। হাতির বসবাসের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই কেবল হাতি রক্ষা হবে।
এদিকে অপরিকল্পিত অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেও হাতিসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর আবাস ও চলাচলের পথ বিঘ্নিত হচ্ছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কারণেও হাতি চলাচলের ছয়টি করিডরে বিঘ্ন ঘটবে। আর রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে হাতি চলাচলের তিনটি করিডর ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
লোকালয়ে বন্যহাতির আসা ঠেকাতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে 'ওয়ার্ল্ড লাইফ প্রটেক্টেড করিডর'। এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুই রেঞ্জের দুই হাজার একরে করা হচ্ছে পরিকল্পিত বিশেষ বনায়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বনাঞ্চলে হাতির গা ঢাকা দেওয়ার মতো আবাস ও খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ফলে লোকালয়ে নেমে আসবে না হাতি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দুটি রেঞ্জের আওতায় ৮২৫ হেক্টর বা দুই হাজার ৬২ একর এলাকায় প্রায় ১২ লাখ চারা লাগানো হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর খাদ্যের উপযোগী প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদও রোপণ করা হচ্ছে এ বনায়নে। এর মধ্যে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৮০ একর বা ৭২ হেক্টর এলাকায় প্রটেক্টেড করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০ একর পাহাড়ি এলাকায় বন বিভাগ এবং অবশিষ্ট ৩০ একরে বনায়ন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও কাজ করছে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে প্রতি হেক্টরে দুই হাজার ৫০০ করে গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। মোট চারা লাগানো হচ্ছে এক লাখ ৮০ হাজার। আর বন্যপ্রাণীর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে লাগানো হচ্ছে জারুল, তেলশুর, চাপালিশ, বট, ঢাকি জাম, পুতি জাম, কালো জাম, গর্জন, বর্তা, কদম, বৈলামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। এসব গাছে হাতির পাশাপাশি অন্যান্য পশুপাখিরও আবাস তৈরি হবে।
কক্সবাজারে হাতিসহ বন্যপ্রাণী রক্ষায় পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নাম হচ্ছে 'প্রটেক্টেড এরিয়া ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর' বনায়ন। এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে বন্যহাতির আবাস ও খাবারের কোনো অভাব হবে না।
আর প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী বিভাগে চুনতি ও জলদি রেঞ্জে হাতিসহ বন্যপ্রাণীর উপযোগী বনায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। তিনি বলেন, গত দুই-আড়াই বছরে চট্টগ্রামে অনেক হাতি মারা গেছে। বেশিরভাগ হাতি মারা হয়েছিল ইলেকট্রিক শক দিয়ে ও ফাঁদে ফেলে। হাতি রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে চলতি জুন পর্যন্ত ২৩টি হাতি মারা গেছে। অন্যদিকে হাতি ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ফরেস্টের (আইইউসিএন) তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মারা গেছে আটটি হাতি। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে মারা গেছে ১১টি হাতি এবং কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে মারা গেছে ছয়টি হাতি।
সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা বন বিভাগের চকরিয়া-লামা সীমান্তের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় মারা গেছে বেশিরভাগ হাতি। সর্বশেষ গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ির অভ্যারখীল পাহাড়ে হাতি মেরে গোপনে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
আইইউসিএনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন বলেন, কীভাবে বিপন্ন প্রাণী হাতি রক্ষা করা যায় সেটি মাথায় রেখে নানামুখী পরিকল্পনা নিতে হবে। হাতির বসবাসের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই কেবল হাতি রক্ষা হবে।
এদিকে অপরিকল্পিত অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেও হাতিসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর আবাস ও চলাচলের পথ বিঘ্নিত হচ্ছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কারণেও হাতি চলাচলের ছয়টি করিডরে বিঘ্ন ঘটবে। আর রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে হাতি চলাচলের তিনটি করিডর ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
- বিষয় :
- উদ্যোগ