ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে কিশোরীকে ধর্ষণ, গর্ভপাত-শিশুর মরদেহ গুমের অভিযোগ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে কিশোরীকে ধর্ষণ, গর্ভপাত-শিশুর মরদেহ গুমের অভিযোগ
×

প্রতীকী ছবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২০ | ০৪:৫৪

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণ ও তার গর্ভে আসা ২৯ সপ্তাহ বয়সী শিশুকে অবৈধভাবে গর্ভপাত করে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ উঠেছে কাউছার আহম্মেদ ওরফে কাউছার হামিদ (২৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা ১১ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী চিকিৎসক (হোমিওপ্যাথিক) ও এক ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আলী আকবর ওরফে আকাব্বর আলী ব্যাপারীর ছেলে কাউছার হামিদ গত বছর ১০ আগষ্ট থেকে ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সুবাদে কাউছার হামিদ কিশোরীর বাড়িতে বাবা-মার অনুপস্থিতিতে প্রায়ই আসা যাওয়া করতেন। তিনি কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। এ পর্যায়ে পরিবারের লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী ঘটনাটি খুলে বলে। বিষয়টি এলাকায় ও কাউছারের পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে, উভয় পরিবার ও এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে কাউছার গত ৪ জুলাই ওই কিশোরীকে বিয়ে করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম করায়। এতে কিশোরীটির গর্ভে ২৯ সপ্তাহ বয়সী একটি শিশুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর গত ৬ জুলাই বিকেলে কাউছার পুনরায় ওই কিশোরীকে বিয়ের কথা বলে চৌমুহনী নেয়। সেখানে হোমিও চিকিৎসক জেসমিন আক্তারের সঙ্গে দালালের মাধ্যমে কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটায় এবং ভূমিষ্ট হওয়া শিশুটির মরদেহ গুম করে। এরপর সন্ধ্যায় কিশোরীকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায় কাউছার। এ দিকে বাড়িতে এসে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে আইনের আশ্রয় নেয়।

কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে দুর্গাপুর ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার মকবুল হোসেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কমল সিংহ, ফারুক হোসেন, শফি উল্যা, হারুন, রুহুল আমিন, মোমিন উল্যা, সিরাজ ও হুমায়ুন কবিরের যোগসাযোসে লম্পট কাউছার ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে মিমাংশা করার কথা বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কাউছার হামিদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।’

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিশোরীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগটি তাৎক্ষাণিক  একজন পুলিশ অফিসার দিয়ে তদন্ত করিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাই। এরপর রাতেই মামলা নথি ভুক্ত করে মামলার আসামি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক জেসমিন আক্তার, ইউপি মেম্বার মকবুল আহম্মেদ, লম্পট কাউছারের সহযোগী কমল সিংহ ও ফারুক নামের ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদেরকে শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ওসি জানান, মামলার প্রধান আসামি কাউছারকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×