ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ঐতিহ্যবাহী বাড়াদি হাটে ছাগল প্রচুর, ক্রেতা নেই

ঐতিহ্যবাহী বাড়াদি হাটে ছাগল প্রচুর, ক্রেতা নেই
×

হাটে বিক্রির জন্য আনা ছাগল -সমকাল

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২০ | ০৫:৫৫

আর অল্প কিছুদিন পরেই কোরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরের বাড়াদি বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ছাগলের হাট এ সময়ে ক্রেতা- বিক্রেতায় জমজমাট থাকে। অথচ করোনার কারণে এখন সেই হাটে নেই কেনা-বেচার হাকডাক। হাটে প্রচুর পরিমানে ছাগল আসলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে।

কোরবানির বাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে মেহেরপুরের ব্লাক বেঙ্গল ছাগল কিনতে ব্যাপারিরা ভিড় করে থাকে ঐতিহ্যবাহী বাড়াদি পশু হাটে। জেলার প্রাণি সম্পদ বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হয় এত বড় পশু হাটের ব্যাবস্থাপনা ও আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে। করোনার কারণে সেই হাটেই এখন ছাগল নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা উভয়েই হতাশ।

মেহেরপুর জেলাতে পশু হাট হিসাবে সর্বপ্রথম বাড়াদি ছাগলের হাট প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বয়স শত বছর পেরিয়ে গেছে। বাড়াদি ছাগল হাটের পর জেলায় মেহেরপুর, গাংনী ও বামুন্দিতে গরু-ছাগলের হাট হলেও এতদিন বাড়াদি ছাগল হাটের আবেদন কমেনি একবিন্দুও। সারা বছরজুড়েই সপ্তাহের শনি ও বুধবার ক্রেতা বিক্রেতায় ভরপুর থাকে হাটটি। প্রতি বছর এসময়ে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল কিনতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, ফরিদপুর, রাজবাড়ি থেকে জেলার ব্লাক বেঙ্গল ছাগল কিনতে ব্যাপারিরা ভিড় করতেন। ট্রাকবোঝায় করে কিনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ বছর করোনার কারণে বিক্রেতারা তাদের খামার বা বাড়িতে পালিত ছাগল নিয়ে হাটে গিয়ে বিক্রি না হওয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হচ্ছে। তবে ঈদের আরো কয়েকদিন বাকি থাকায় এবছর এখনও বিক্রির আশায় আছেন ছাগল পালনকারীরা।

জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের হিসাব অনুয়ায়ী, মেহেরপুরে কোরবানিযোগ্য ছাগলের চাহিদা ৪৬ হাজারের ওপরে। জেলায় কোরবানিউপযোগি ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৪৯৫টি। মেহেরপুরের খামারি ও ব্যক্তি উদ্যেগে বাড়ি বাড়িতে অতি যত্নে পালিত কোরবানিযোগ্য খাসিতে বাড়াদি হাট ভরে যাচ্ছে সপ্তাহের শনি ও বুধবার। তবে প্রতি বছরের মত জমছে না এবারের ছাগলের হাট। মেহেরপুরের ব্লাকবেঙ্গল জাতের ছাগলের চাহিদা ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে বেশি থাকে। আর এর চামড়ার খ্যাতিতো বিশ্বজুড়ে।

গত বুধবার হাটে সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের কোরবানির ছাগল ক্রেতা শিক্ষক মাসুদুল হাসান বলেন, হাটে সব ধরনের খাসি উঠছে। দাম ৭-৮ হাজার টাকা থেকে ৪৫-৫০হাজার টাকার মধ্যে। এবার ছাগলের আমদানি খুব বেশি। তবে ক্রেতা কম। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। বাইরে থেকে ব্যাপারি আসলে দাম বেড়ে যায়।

মেহেরপুর আমঝুপি গ্রামের স্থানীয় ছাগল ব্যাবসায়ী আসাদুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুরসহ আশপাশ এলাকার সবচাইতে বড় ছাগলের হাট বাড়াদি হাট। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রচুর পরিমাণ ছাগল আমদানি হয় এই হাটে। আমরা গ্রাম এলাকা থেকে ছাগল কিনে এই হাটে বাইরের ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করি। অনেকে কোরবানির জন্যও কিনে নিয়ে যায়। ঈদের সময় একটু বাড়তি আয়ের জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে জোর দিয়ে ব্যাবসা করি। এ বছর অন্যবারের মত ব্যাবসা হচ্ছে না। দেখা যাক কোরবানির আগ পর্যন্ত কী হয়?

বাড়াদি হাটের ইজারাদার মো. ইসরাফিল আলম বলেন, এখন প্রতি হাটে তিন থেকে চার হাজার ছাগল আমদানি হচ্ছে। স্থানীয় কোরবানি দাতারাই কিনছেন বেশি। বেচা-কেনা খুবই কম। গত বছরও এসময় প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার ছাগল বিক্রি হয়েছে। কোরবানির আরোতো কিছুদিন বাকি আছে। আশা করছি বাইরে থেকে ব্যাপারি আসলে হাট জমে যাবে। তবে অন্যবারের মত বেচা-কেনা হবার কোন আশা দেখছি না।

মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাটে মেডিকেল টিম বসানো হবে। ক্রেতারা চাইলে স্টরওয়েড বা হরমোন পরীক্ষার জন্য আমাদের সহায়তা নিতে পারবেন। হাটগুলোতে কিছু পশু পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত স্টরওয়েড বা হরমোন দিয়ে মোটাতাজাকরণ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী বলেন, হাটগুলোতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদারকি অব্যাহত আছে। ক্রেতা বিক্রেতারা টাকা পরিবহনে অসুবিধা মনে করলে পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করবে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×