ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মুরাদনগরে তিন খুন

শিমুল চেয়ারম্যানকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

শিমুল চেয়ারম্যানকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ
×

মামলার বাদী রিক্তা আক্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫ | ২১:৪৭

কুমিল্লার তিন খুনের ১০ দিন পার হলেও পরিকল্পনাকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার আট আসামির তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বিকেলে বিচারক মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৩ জুলাই মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি এলাকায় একটি মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে রোকসানা বেগম রুবি, তাঁর মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়াকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় ঘটনাক্রমে বেঁচে যান রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার এবং রুমা আক্তার। রুমা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে সমকালকে রিক্তা বলেন, ‘আমার মা ও ভাইবোন খুনের পর আহত বোন রুমার চিকিৎসায় এখনও ঢাকা মেডিকেলে আছি। কখন বাড়ি ফিরতে পারব জানি না। ঘাতকদের পরবর্তী টার্গেট আমরা দুই বোন। ঘাতকরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, রুবির (মা) দুই মেয়ের লাশ ফেলতে গ্রামবাসী প্রয়োজনে ৫-১০ কোটি টাকা খরচ করবে। তাই জীবন বাঁচাতে এখন সব সময় আতঙ্কে থাকি। রাতে ঘুমাতে পারি না। অপরিচিত কাউকে দেখলে মনে হয়, এই বুঝি ঘাতকরা এলো।’

এ ঘটনায় ৪ জুলাই রাতে রিক্তা বাঙ্গরা বাজার থানায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার পরদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মো. সবির আহমেদ, মো. নাজিম উদ্দীন বাবুল, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, রবিউল আউয়াল, দুলাল, আতিকুর রহমান, বয়েজ মাস্টার, আকাশ এবং গত শুক্রবার আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।

আদালতের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান সমকালকে বলেন, এ মামলায় কোনো আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

মামলার বাদী রিক্তা আক্তার সমকালকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ আমাদের বাড়ির প্রতিটি ভবনের গেটে নিরাপত্তার জন্য তালা দিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন লোকজন বাড়ি দেখতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যেতে পারছি না। পুলিশ আর ক’দিন নিরাপত্তা দেবে? হামলায় অনেক লোক জড়িত ছিল। অন্য গ্রামের লোকজনও ছিল। তাদের অনেককে চিনতে পারিনি। শিমুল চেয়ারম্যানকে আটক করলে সবার নাম বের হবে।’

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা আছে। এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মামলার বাদীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি কিংবা তাদের নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

জেলা ডিবির ওসি মো. আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে আট আসামি বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। আমরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিমুল চেয়ারম্যানসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×