আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পাননি গ্রাহক
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১১:২৭
সাত দিনেও আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পাননি খুলনার শিরোমনি এলাকার ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা মেসার্স হাজারী এন্টারপ্রাইজের গ্রাহকরা। গত ৭ জুলাই অন্তত ৬০ গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ওই শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাগজী মাহাবুবুর রহমান ও মার্কেটিং অফিসার মনিরুল গাজী। এরপর থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ঘুরছেন গ্রাহকরা। টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে এলাকায় আলাদাভাবে মানববন্ধন করেছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন এ এইচ এম শফিউল্লাহ। স্থানীয়ভাবে তিনি জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এজেন্ট শাখায় লেনদেন শুরু হয়। শুরু থেকে কাগজী মাহাবুবুর রহমানকে ক্যাশ ইনচার্জ ও মনিরুল গাজী মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তারাও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
জুলাইয়ের শুরু থেকে মাহাবুব শাখায় আসা বন্ধ করে দেন। গত ৭ জুলাইয়ের পর থেকে মনিরুলকেও আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের না পেয়ে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের হিসাবে টাকা নেই। পরে জানা যায়, গ্রাহকের টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন মাহাবুব ও মনিরুল।
দিনমজুর আকরাম গাজীর ব্যাংক হিসাব ছিল ওই এজেন্ট শাখায়। তাঁর ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘চার বছর ধরে বাবা ব্যাংকে টাকা জমা দেন। ৮ জুলাই ব্যাংকে গিয়ে দেখি বাবার হিসাবে ১ হাজার টাকা জমা রয়েছে। অথচ বিভিন্ন সময় জমা দেওয়া ৭৭ হাজার টাকার জমার রসিদ আমাদের কাছে আছে। ৭ দিন হয়ে গেলেও টাকা দিচ্ছি দেব বলে ব্যাংক সময় পার করছে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন খোকা বলেন, ‘আমার হিসাবে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। আমাকে ৩ দিনের মধ্যে এটিএম কার্ড দেওয়ার কথা বলে দেড় মাস ধরে ঘোরাতে থাকে। একদিন জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে এজেন্ট শাখায় গেলে ওরা কোনো ডকুমেন্ট ছাড়া আমাকে ১০ হাজার টাকা দেয়। পরে আবার চাইলে ২০ হাজার টাকা দেয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে ফুলতলা প্রধান শাখায় গিয়ে দেখি, আমার হিসাবে টাকা নেই।’
তবে খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটু বলেন, ‘আমারও হিসাব ছিল ওই এজেন্ট শাখায়। আমার হিসাবের ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।’ মাহাবুব ও মনিরুলের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী ব্যাংক ফুলতলা শাখার ব্যবস্থাপক আনিচুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে এজেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
- বিষয় :
- ইসলামী ব্যাংক
- এজেন্ট ব্যাংকিং
- অর্থ আত্মসাৎ