ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নবীগঞ্জে জলমহাল নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ খুন, আহত ৩০

নবীগঞ্জে জলমহাল নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ খুন, আহত ৩০
×

হামলায় আহত একজন- সমকাল

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৬:৩২

হবীগঞ্জের নবীগঞ্জে বিজনা নদীর জলমহাল নিয়ে বিরোধে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর দেবপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ব্যক্তির নাম জাহির আলী (৭৫)।

এ সময় বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। হামলাকারীরা গর্ভবর্তী নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০জনকে জখম করেছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার ঘটনার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ, নবীগঞ্জ-বাহুবলের সার্কেল এএসপি মো. পারভেজ আলম চৌধুরী এবং ওসি মো. আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের বাশডর  দেবপাড়া গ্রামে বিজনা নদীর জলমহাল নিয়ে ওই গ্রামের বর্তমান ইনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও সাবেক সদস্য মনর মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের শফিক মিয়া, রয়মান মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলা ও মামলা মোকদ্দমাও হয়েছে। 

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল- এর সার্কেল এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় নবীগঞ্জ থানায় ও তার কার্যালয়ে একাধিকবার বিষয়টি নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমকে নিয়ে মিমাংসা করে দেয়া হয়। তবে বর্তমান ইউপি সদস্য রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও সাবেক সদস্র মনর মিয়া সালিশের সময় রায় মানলেও এলাকায় এসে তা অমান্য করে তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যায়।

এমন পরিস্থিতে বুধবার সকালে কাচন বাড়ির সামনে দিয়ে সিএনজি ষ্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে শফিক মিয়ার পক্ষের লতিফ মিয়া ও তার স্ত্রীকে আটক করে মারধোর করে। এ খবর শফিক লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং রাতেই দাঙ্গা হাঙ্গামা এড়াতে উভয় পক্ষের ৫ জনকে আটক থানার নিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার সকালে এরই জেরে রাজা মিয়া, কাচন মিয়া ও মনর মিয়ার লোকজন পুর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে শফিক পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে এলোপাতারি হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীদের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জাহির আলী মারা যান। আহত হন ৩০ জন।

এ সময় হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধান করে বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।


আরও পড়ুন

×