ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় ঢাকা থেকে যায় ৩ ভাড়াটে খুনি: পুলিশ

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় ঢাকা থেকে যায় ৩ ভাড়াটে খুনি: পুলিশ
×

নিহত বিএনপই নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫২)

কিশোরগঞ্জ ও মিঠামইন প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:২১ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:২২

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫২) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঢাকা থেকে ভাড়ায় খুন করতে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জাহাঙ্গীরকে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া (৩৮)। বর্তমানে তিনি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

আটক তিনজন হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে তিন দিন আগে ঢাকা থেকে মিঠামইনে আসেন। হামলার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় একজনকে ঘটনাস্থল থেকে ও পরে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বুধবার গভীর রাতে দুজনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও কারা তাদের ভাড়া করেছিল সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা চলছে। আটকদের অতীত রেকর্ড জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি বড় ঘটনা। সে কারণে মামলার প্রস্তুতি নিতে কিছুটা সময় লাগছে।

নিহত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ছোটভাই জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার বাদ জুমা মিঠামইনের পারিবারিক কবরস্থানে জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হবে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মিঠামইন সদর বাজার থেকে বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদুল আলম। পাশেই বেড়িবাঁধ এলাকায় জাহিদুলের নিজ বাগানবাড়ির সামনে তিনজন ধারালো চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। গুরুতর আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাহিদুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত হাদিসের বড়ভাই আজিজুল কবির সমকালকে জানান, হাদিস মিয়া কোনও কমিটিতে না থাকলেও তিনিও বিএনপি কর্মী। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়া মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে জাহাঙ্গীরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছে যেতেই জাহাঙ্গীরের ওপর তিন ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। জাহাঙ্গীরের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এসময় হাদিস মিয়া একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন। তখন হাদিসের মাথা, হাত ও পায়ে চাপাতি দিয়ে তিনটি কোপ দেয়। এরপরও তিনি হামলাকারীকে ছাড়েননি। তখন এলাকার লোকজন এসে হামলাকারী একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এমপি জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খুনি ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

মিঠামইনের বেড়িবাঁধের সরকারি ২০টি মেহগনি গাছ কাটার দায়ে প্রকৌশল অফিসের দায়ের করা মামলায় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। একই দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ স্থগিত করা হয়েছিল। মাসখানেক কারাভোগ করার পর তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

৫ জুলাই তার সভাপতির পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। যদিও পদ স্থগিতাদেশের চিঠিটি তার মৃত্যুর পর জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×