ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়া

বিদ্যালয়ের জমি দখল করে এনসিপি নেতার সড়ক নির্মাণ 

বিদ্যালয়ের জমি দখল করে এনসিপি নেতার সড়ক নির্মাণ 
×

সড়ক নির্মাণ করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি। ছবি: সমকাল

বরিশাল ব্যুরো ও কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৯ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৯

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শহরে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরোধীয় জমি দখল করে নিজ জমিতে যাওয়ার সড়ক নির্মাণ করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি। প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আধারে সড়কটি নির্মাণ করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের পেছনে কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার সড়ক নেই। তিনি বিদ্যালয়ের বিরোধীয় জমির ৬ শতাংশের মৌখিক বায়না সূত্রে মালিক দাবি করে সড়ক নির্মাণ করেছেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মামলা চলছে। নয়নদের পক্ষে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টে পুনঃবিবেচনায় রয়েছে। এমন অবস্থায় জমি দখল ও শ্রেণি পরির্তন বৈধ নয় বলে জানা গেছে। 

কাফি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। ‘২৪-র গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠককের পক্ষে ভূমিকা রেখে তিনি আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য হন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানান, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমি ভোগদখলে রয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের হলে বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল হয়। জমি নিয়ে উচ্চ স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে দীর্ঘ বছর মামলা চলমান। উচ্চ আদালত নয়নদের পক্ষে দিয়েছেন। ওই রায় পুনঃর্বিবেচনার আবেদন করায় সেটা এখনও চলমান। এরইমধ্যে কফি নয়নদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন দাবি করে দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

নয়ন পাহলান জানান, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। প্রথমে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে হাইকোর্ট থেকে পক্ষে রায় পেয়েছেন। কাফির জমিতে যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ বায়না চুক্তির মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি বলেন, বিদ্যালয়ের পেছনে আমি ৩০ লাখ টাকায় একটি জমি ক্রয় করেছি। সেখানে যাতায়াতের কোনো সড়ক ছিল না। সড়কের জন্য প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি অপারগতা জানান। নয়ন পাহলারা আদালতের রায় পাওয়ার পর মৌখিক বায়নায় তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি নিয়ে সড়ক করেছি। দিনে মেশিন দিয়ে নির্মাণ সড়ক করা হয়। রাতে দখলের কিছু হয়নি। 

কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, সড়ক না করার জন্য কাফিকে তারা নিষেধ করেছেন। তা উপেক্ষা করে সড়ক নির্মাণ করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, জমি বিদ্যালয়ের দখলেই ছিলো। উচ্চ আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে কাফি ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করে সড়ক নির্মাণ করছেন। কিন্তু কোনো রায় পুনর্বিবেচনা চলাকালে বিরোধীয় জমি দখল করা যায় না। এ বিষয়ে কাফিকে নোটিশ করা হবে।

আরও পড়ুন

×