ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষা ছাড়াই করোনার রিপোর্ট, ঈশ্বরদীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

পরীক্ষা ছাড়াই করোনার রিপোর্ট, ঈশ্বরদীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা
×

রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন -সমকাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৭:১০

করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে দৈনিক সমকালে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে পাবনার ঈশ্বরদীর আলোচিত রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে পাবনার সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেন। 

এর আগে বুধবার রাতে রূপপুর মেডিকেয়ারের ম্যানেজার রুহুল আমিন বুলুকে (২৬)  গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাকশীর রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক বিকাশ কুমার চক্রবর্তী তাকে গ্রেপ্তার করেন। 

জানা গেছে, পাবনা সিভিল সার্জন অফিস কিংবা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোন অনুমতি না নিয়েই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করোনা পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

রূপপুর মেডিকেয়ার সিলগালা করে বন্ধ করার সময় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান বলেন, ‘রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করে করোনার রিপোর্ট দেওয়াসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করে আসছিল। সেসবের প্রমাণও আমরা পেয়েছি। পাবনা সিভিল সার্জন বিভাগ হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে।

জানা গেছে, অনুমোদনহীন ঈশ্বরদীর মেডিকেয়ারকে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল লিঃ। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে অবস্থিত মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন না থাকা সত্বেও করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ‘নমুনা’ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুন কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়ন পত্রে তারা মেডিকেয়ারকে নমুনা নেওয়ার অনুমতি দেয়। এসব নিয়ে পুলিশী তদন্তের পর গত ৭ জুলাই রূপপুর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল ওহাব রানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ ও রানার সহযোগী সুজন আহমেদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়। 

উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই সমকালে ‘করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা ক্লিনিক মালিক গ্রেপ্তার’ এবং ১৪ জুলাই সমকালের প্রথম পাতায় ‘ঈশ্বরদীতে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিলছে নানা তথ্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর পাবনার ওষুধ প্রশাসন ও ঈশ্বরদীর পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে।

আরও পড়ুন

×