ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বর্ষা ও শুকনো দুই মৌসুমেই নদীভাঙন মির্জাপুরে

বর্ষা ও শুকনো দুই মৌসুমেই নদীভাঙন মির্জাপুরে
×

মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদীঘি এলাকায় ঝিনাই নদীর ভাঙন সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ০০:৫৭

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর এলাকার ঝিনাই নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে রাস্তা, বাড়িঘর, বাজার ও ফসলি জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া সেতু, বানকাটা মসজিদ, হিলড়া বাজার, হাট ফতেপুর গ্রাম ও পারদীঘি গ্রামের সোনার চর এলাকা।
জানা গেছে, যমুনার শাখা ঝিনাই নদী মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী ফতেপুর সুতানড়ী বানকাটা থলপাড়া ও চাকলেশ্বর গ্রামের ওপর দিয়ে ভাটিতে চলে গেছে। প্রতি বছর বর্ষায় জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় ভাঙন। গত বছর বর্ষায় ঝিনাই নদীর ভাঙনে হাট ফতেপুর বাজারের ১০টি দোকানসহ বিশাল অংশ নদীতে বিলীন হয়। এ সময় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়। এবারও ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। আর এই ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে থলপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাই নদীর ওপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থলপাড়া সেতু এলাকার উভয়পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে সেতুটি হুমকির মধ্যে পড়েছে। শুকনো মৌসুমে সেতুর কাছে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা এবং বর্ষায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীতে ভাঙন দেখা দেয় বলে এলাকাবসীর অভিযোগ। এছাড়া সেতুসংলগ্ন নদীর উজান ও ভাটিতে ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া বানকাটা মসজিদ, হিলড়া বাজার, হাট ফতেপুর গ্রাম ও পারদীঘি গ্রামের সোনার চর এলাকা এখন নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকার মানুষের।

থলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী আজম খান ও লিয়াকত দেওয়ান বলেন, ঝিনাই নদীতে জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গে থলপাড়া সেতুর উভয় পাড়ে ভাঙন শুরু হয়। গ্রামবাসী টাকা তুলে কিছু জিওব্যাগ ফেলে সেতুটির উত্তর পাড়ের সংযোগ সড়ক রক্ষার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে সেতুর উভয় পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থলপাড়া সেতুটি হুমকির মধ্যে পড়েছে বলে জানান তারা। ভাঙনে গ্রামের ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমীর হোসেন লেবুর ভাষ্য, প্রতি বছর ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। বর্ষা ও শুকনো দুই মৌসুমেই নদী ভাঙে। মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এই গ্রামগুলো ও থলপাড়া সেতু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রান্ত পণ্ডিত বলেন, ফতেপুর ইউনিয়নে নদী ভাঙন প্রতিরোধে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। থলপাড়া সেতুটি ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে জানতে পেরেছেন তারা। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×