সাংবাদিক নাদিম হত্যা
আসামির চেয়ারম্যান পদে ফেরার খবরে আতঙ্ক, পরিষদে তালা
ছবি: সংগৃহীত
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ০৫:৩৯
সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। তাঁর চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার খবরে গতকাল বুধবার দুপুরে পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। পথে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাটহাটি এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে জামালপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সেখানে নেওয়া হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৫ জুন বিকেল ৩টার দিকে মারা যান সাংবাদিক নাদিম। এ ঘটনায় ১৭ জুন ২২ জনের নামে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ২০ থেকে ২৫ জনকে।
মামলার প্রধান আসামি সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ জুন চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জামিনে এসে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন বাবু। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ২৮ জুলাই বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানকে একটি চিঠি দেন।
এর মধ্যে বুধবার বাবু চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার খবরে তাঁর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। পরে পরিষদের প্রধান ফটকে তালা দেন তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি রাশেদুজ্জামান সোনা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন খান, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার আহমেদ সুমন ও বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্র সমাজের জামালপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক আল মানছুর মুহিদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন এলাকার মানুষকে অনেক নির্যাতন করেছেন। একাধিক মামলার আসামি পুনরায় চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসলে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তাঁকে আর পরিষদে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাবুকে আবারও বরখাস্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে সাধুরপাড়া ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মাহমুদুল আলম বাবু। সাংবাদিক খুন করে জামিনে এসে আবারও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারে বসতে চাইছেন। আমরা বাবুর অপসারণ ও জামিন বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
- বিষয় :
- হত্যা মামলা
- বকশীগঞ্জ
