ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের শ্রমিকদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ
পলাশ(নরসিংদী)প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ০৪:১৫
বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রাধীন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার স্থায়ী অস্থায়ীসহ সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের বাসা, দোকান ও লীজকৃত আবাদি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে মিলের প্রধান গেইটে এ সংক্রান্ত এক নোটিশ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে জানা যায়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট-১ অধিশাখার এক পএে ৩০ শে জুন ২০২০ মোতাবেক সরকারি সিদ্বান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশালস্থ বাংলাদেশ জুট মিলসহ ২৫টি পাটকল শ্রমিকদের চাকুরি গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার আওতায় অবসানসহ উৎপাদন কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণরুপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
উক্ত আদেশ বাস্তবায়নের জন্য আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের সকল স্থায়ী ,বদলি ,দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের নামে বরাদ্দকৃত বাসা,কাঁচাঘর,দোকানপাট ,লীজকৃত আবাদী জমি মিল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মিল এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছে।
গত ২ জুলাই রাত থেকে বাংলাদেশ জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী সরদার জানান, এই করোনা পরিস্থিতিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ করার কারণে মিলের প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এমনিতেই বেকার হয়ে পড়েছেন। তার উপর তাদের সকল পাওনাদি না দিয়ে তাদের বাসাবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়া ঠিক হয়নি। তিনি আরও জানান,কোন শ্রমিকের হাতেই টাকা নেই। মালামাল নিয়ে বাড়ি যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পাওনা টাকা পরিশোধ করে তাদের যেন বের করা হয় এটাই মিল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।
এদিকে মিলের পাওনা টাকা পরিশোধের আগে এমন খবরে হতাশা প্রকাশ করে মিলের শ্রমিক ইকবাল ও মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের পাওনা পরিশোধ না করে বের করে দিলে কোথায় যাবো। নতুন বাসায় উঠতে গেলে অগ্রীম টাকা দিতে হয়। এছাড়া করোনা ও বর্ষার সময় চলছে। বাসার মালপত্র নিয়ে আমরা যেতেও পারবোনা, এখন আমাদের কি উপায় হবে!
তারা জানান, যদি এই সময়ের মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হয় তাহলে নোটিশ অনুযায়ী তারা চলে যাবেন। আর যদি সমস্ত পাওনা পরিশোধ না করা হয় তাহলে তাদের বাসা ছাড়ার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করেন। তারা বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়াশো করছে। ডিসেম্বর না আসা পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তিও করাতে পারবো না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের প্রকল্প প্রধান মো. মতিউর রহমান মণ্ডল জানান, নোটিশ অনুযায়ী শ্রমিকরা জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। মিলে প্রায় ১৫০টি পরিবার আছে। ২০টির মতো দোকান আছে। বেশিরভাগ শ্রমিক কলোনি ছেড়ে ইতিমধ্যে চলে গেছেন। তিনি আরও জানান, নোটিশের দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকরা পাওনা টাকা পেয়ে যাবেন। সে জন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, তারপরও যদি কারও পরিবারের সমস্যা থাকে এবং কলোনিতে আরও ১ মাস থাকার জন্য আবেদন করে তাহলে আমরা সেই সুযোগও দিবো। কাউকে জোর করে উঠাবোনা ।
- বিষয় :
- ঘোড়াশাল
- বাংলাদেশ জুটমিল
- ঢাকা
- নরসিংদি
- পলাশ