টানা বর্ষণে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ- সমকাল
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ০৬:৫২
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিনে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সোমবার থেকে টানা বর্ষণের ফলে সুরমা-কুশিয়ারার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কানাইঘাট-সিলেট বুরহান উদ্দিন সড়কের নলু এলাকায় রাস্তায় পানি উঠে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে সব ধরনের যান চলাচল করছে। পানি আরও বাড়লে সিলেট শহরের সাথে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে কানাইঘাট উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা। টানা বর্ষণে আসন্ন কোরবানির ঈদের গরুর বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে হাকালুকি হাওর ও বাঘা হাওরেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বাঘা ,শরীফগঞ্জ ,বুধবারীবাজার , বাদেপাশা ,ঢাকাদক্ষিণ,লক্ষণাবন্দ ও সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ছেন।
বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছানা মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘার কয়েকটি টিলা এলাকা ছাড়া সব কটি এলাকা পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কৃষি নির্ভর এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা কৃষি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া মৎস খামারীরা ও পড়েছেন বিপাকে। তিনি তার ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর, ফতেহপুর, হাওরতলা, আরেঙ্গাবাদ, গোয়াসপুর, নিয়াগুল, কাটাখালির পার, উজানমেহেরপুর, কুলিয়াখালি এবং মীরগঞ্জ এলাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান।
শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ মুহিত হীরা জানান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় হাকালুকি হাওর সংলগ্ন রাংজিওল, ইসলামপুর, নুরজাহানপুর, কালিকৃষ্ণপুর, কাদিপুর সহ বেশ কয়েকটি নিম্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। হাওর এলাকায় বন্যার পাশাপাশি হাকালুকি হাওরের ঢেউ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব এলাকায় এখনও কোন ত্রাণ বা সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি বলে পানি বন্দি লোকজন জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ বানবাসীদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে।
- বিষয় :
- সিলেট
- গোলাপগঞ্জ
- বন্যা পরিস্থিতি