ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি
চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ০৬:৫৬
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের লবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এতে অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নেতৃবৃন্দ।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. ওসমান ফরহাদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএমএ’র সভাপতি মুজিবুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. বাদল, চমেক ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান, চমেকসু ভিপি এমএ আউয়াল রাফি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে যারা জনগণকে চিকিৎসা দেবেন তাদের ওপর হামলা-মামলা কোনোভাবে কাম্য নয়। অনেকটা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এসব করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কলেজে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বার বার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য একটি চক্র কাজ করছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বক্তারা মামলা প্রত্যাহারসহ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গত ১২ জুলাই চমেক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১১ জন নেতাকর্মীসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ওইদিন সকালে চমেক হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অনুষ্ঠান শেষে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করার পর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১১ চিকিৎসকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খোরশেদুল ইসলাম। বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধেও আরেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দাশ থানায় অপর আরেকটি মামলা করেন।
এর আগে গত ১৫ জুলাই মামলার জেরে চট্টগ্রামে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছাত্রলীগের পক্ষের নিয়ন্ত্রণে আছে। ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ প্রয়াত সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।