হাইমাউ করে কাঁদলেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা
ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ১০:৩৯
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাইমাউ করে কাঁদলেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তাকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খাজা নেওয়াজের এক সমর্থক পিস্তল দেখিয়ে জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া খাদ্য গুদামে। এ ঘটনায় জড়িত ওই খাদ্য গুদামের প্রহরী মশিউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
ওই গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, 'আমাদের গুদামে কৃষকরে কাছ থেকে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বজারে ধান চালের দাম বেশি থাকায় কৃষক খাদ্য গুদামে ধান চাল দিচ্ছেন না। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুক্তভাবে ধান চাল ক্রয়ের নির্দেশ দেন। আমি এ পর্যন্ত কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ৪শ টন ধান কিনেছি। আমাদের প্রহরী মশিউর রহমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খাজা নেওয়াজ ও তার লোকজনকে খাদ্য গুদামে ধান দিতে উৎসাহিত করে। গত রোববার খাজা নেওয়াজের লোকজন ও তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে প্রহরী আমাকে লাঞ্ছিত করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রহরীকে সতর্ক করে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। এতে প্রহরী ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। সেমাবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ৫-৬ জন লোক নিয়ে খাদ্য গুদামে এসে প্রহরীর মাধ্যমে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি আমার ডান পাশের চেয়ারে বসে তার কাছ থেকে ধান নেয়ার কথা বলেন। আমি কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের ধান দেওয়ার কথা বলি । পরে তার সাথে আসা একজন পিস্তল বের করে বলে এই দিয়ে তোকে ফেলে দেব। আগে অনেক ফেলেছি। তোকে ফেলে দিলে কিছুই হবে না। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কেঁদে কেঁদে জানিয়েছি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছি। তিনি আমাকে আইনি সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছেন।'
অভিযুক্ত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ বলেন, 'আমি বা আমার লোকজন রাতে খাদ্য গুদামে যাইনি। আমাদের বিরুদ্ধে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। গুদামের প্রহরীর সাথে কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রাতে গুদামে কি ঘটনা ঘটেছে, তা আমি জানি না।'
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, 'এই ব্যাপরে ওই কর্মকর্তা আইনি সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা করা হবে। এ ছাড়া এই ঘটনায় জড়িত ওই খাদ্য গুদামের প্রহরী মশিউর রহমানকে বদলি করার জন্য আমি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শেফাউর রহমানকে ফোন দিলে তিনি ওই নৈশ প্রহরীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেন।'
এ বিষয়ে জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শেফাউর রহমানের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।